গদ্যানুশীলনে মিঠুন মুখার্জী

শহীদ আজাদ
আজাদ যেদিন জন্মেছিলেন সেদিন ছিল ‘আজাদি কে দিন’ অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবস। তিনি যে দেশমাতার জন্য নিজের প্রাণ উৎসর্গের নিমিত্তে জন্মেছিলেন এটা কেউ ভাবেননি। তবে স্বাধীনতা দিবসের দিন জন্ম বলে বাবা মেজর রবিন সিং ছেলের নাম রেখেছিলেন আজাদ। দেশ মায়ের প্রতি এমন ভালোবাসা তাঁর রক্তে ছিল। ছোটবেলা থেকেই একগুঁয়ে, জেদি ও ত্যাগি স্বভাবের ছিলেন আজাদ। যেদিন শহীদ হয়েছিলেন, সেই দিনটিও ছিল ১৫ ই আগস্ট। স্বাধীনতা দিবসে বিভিন্ন নাশকতার ছক কোষে বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন। তাই পুরো আগস্ট মাস জুড়ে সমগ্র ভারতবর্ষের বড় বড় শহরে থাকে আঁটোসাঁটো নজরদারি। ২০১০ সালেও প্রচন্ড নজরদারি ছিল বোম্বাইয়ের ‘ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস’ রেলস্টেশনে। দিনটি ছিল সোমবার, সপ্তাহের প্রথম দিন। মহারাষ্ট্রের বোম্বের এই রেলস্টেশন তখন ছিল প্রচন্ড ব্যস্ত। আজাদের গোটা আগস্ট মাস জুড়ে এখানে ডিউটি পরেছিল। সব মিলিয়ে প্রায় একশো জওয়ান এখানে নজরদারিতে দেওয়া হয়েছিল।
রেল হকার সোসাইটির পক্ষ থেকে সকাল দশটার সময় পতাকা তোলা হয়েছিল ‘জয় হিন্দ’ ধ্বনি দিয়ে। মাইকে বেজে ছিল ‘বন্দেমাতরম’ ও ‘সারে জাহা সে আচ্ছা’ গান দুটি। সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু যখন দুপুর একটা বাজে স্টেশন জনস্রোতে ভেসে যাচ্ছে,ঠিক তখনই হঠাৎ গোয়েন্দা সূত্রে ফোন আসে জওয়ানদের কাছে, দশ নম্বর প্লাটফর্মে দাঁড়ানো ট্রেনে টাইম বোমা আছে। প্রায় ত্রিশ জন জওয়ান ট্রেনটি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও বোমাটি পায় না। কিছুক্ষণ পর আজাদের চোখে পড়ে ছয় নম্বর বগির একটা সিটের নিচে বোমাটি লাগানো। পাঁচ মিনিট বাকি বোমাটি ফাটতে। সকলকে ট্রেন থেকে নামানো এই অল্প সময়ে সম্ভব নয়। জানালে একটা গোলমাল শুরু হতে পারে। তাই নিজের জীবনের পরোয়া না করে মুহুর্তের মধ্যে টাইম বোমাটি নিয়ে স্টেশন সংলগ্ন একটা ফাঁকা মাঠে দৌড়ে গিয়ে ছুড়ে মারতে যায় আজাদ। বোমাটি ছোড়ার আগেই ফেটে যায়। শহীদ হন জওয়ান আজাদ সিং। নিজের জীবনের বিনিময়ে রক্ষা করে গেলেন অসংখ্য মানুষের জীবন। বাড়িতে খবর পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন আজাদের মা। বাবা বলেন– “তোমার সন্তান মারা যায়নি, শহীদ হয়েছে দেশ মায়ের জন্য। তার জন্য তুমি কেঁদোনা। এমন ছেলে ভাগ্য করলে পাওয়া যায়। তুমি গর্ব করো।” ভারত সরকার মরণোত্তর “পরমবীর” সম্মানে ভূষিত করেন শহীদ আজাদকে।