সাতে পাঁচে কবিতায় মৌসুমী মুখোপাধ্যায়

অস্তিত্ব
এত আয়োজন , সত্তার এত বিচরণ শুনি , কিন্তু সব’ আমারই দৃশ্যগোচর নয়
আমি কি সীমা-অসীমার মাঝখানে না ,প্রান্তবেলায় দাঁড়িয়েছি দু-হাতে চোখ ঢেকে ?
চোখ দাও , তবে চোখ দাও
এ নিঃসীমের শব্দকোষে উদ্দীপক শব্দের ঠাঁই দাও
প্রভু বইতে পারি অমন বহন দাও
এত শিশির ধোয়া শুরুর খেলা এধার ওধার থেকে ছুটে এলো প্রাঙ্গনে উদ্দাম মাতাতে
পিঙ্গল আভার মতো হাত-সরিয়ে-মুছে দেওয়া প্রবাহের সর , বিকট অবলা গর্জনে ছিটকে বেরলো
আলোর প্রপাত পঙ্গপালের এক-এক বেলা , ধূসর চাষীর মুখের মতন পান্ডুর-নিঃশব্দ খানখান
করে রয়ে গেল
অজস্র শূন্যের মাঝখানে
অস্তিত্ব একেই কি বলে , কে জানে ?
এত আলো-আঁধার , এত দেওয়া -নেওয়া ,এত নৈকট্য-বর্জন
এত তারতম্যের ঘটন-অঘটন , তবে কি আমি দৃশ্যবিহীন মেঘলা কালো জলে?
দাঁড়িয়ে আছি কোথায়’ ফিরব বলে ?
দৃশ্য দাও , তবে দৃশ্য দাও
যা কিছু লিখেছি অগোচরে রূপোল অকূলতায় সে’ দৃশ্য দাও
প্রভু সইতে পারি অমন সহন দাও
এ বিশ্বসংসার কখনো মাতাল কখনো দয়াল কখনো যুবক কখনো প্রৌঢ়
কখন বন্য আবার জটাখুলে দৈন্য ,কি সাজে সাজাবো আমার সত্তা ?
মধ্যে রাত্রে যে বাতাসভরা হাসনুহানার কাঁপন , জ্যোৎস্নার ভেলায় ভেসে মাঝ সমুদ্রে জ্বলে ওঠে স্বপ্ন
একান্ত আর একান্তই নিজের করে ।শুধু নীল ছুঁলেই মেঘের সমস্ত শিল্পরূপ গলে ঝরে যায় বালিয়াড়ির বুকে সেও তো ঘর বাঁধবার দুর্দমনীয় কৌশল
বুঝি তবে আমি হৃদয়ের কাছে মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, কে , ও কে?
কে যেন বেড়া বেঁধে দিয়ে গেল অস্তিত্বে
ফেরার সময় হলো , উড়িয়ে দিই অন্তঃসার কাতরতা মিলে যাক্ সমুদ্রের রঙে
বিস্তারের সর্বস্ব মাতনে দেখি আমার বিস্মরণ— আমার অস্তিত্ব।