গল্পেরা জোনাকি -তে মালা মিত্র

আমার সে ও আমি

যৌবনের সাথে সাথে হেঁটে চলা,মানুষটা কেমন দিনে দিনে পাল্টাতে থাকে।
সে টগবগে টাট্টুঘোড়া আগুন থেকে দাবানল মস্তিষ্ক থেকে হৃদয়ে গনগন্ করে তুলত,সে আগুন কে বাগমানানোর,লড়াই ঝগড়ার আলাদা মজা আছে,তা হারই হোক বা জিৎ।
যে মহাদ্রুমের ছায়া বিশাল হয়ে দারুণ রোদে বুক পেতে দাঁড়ায় মানুষজনকে ছায়া দেবে বলে,
সে বটবৃক্ষের ছায়া একা ভোগ করতে মন চায়।না না পথিকজন মাথা গুঁজলেই গোঁসাঘরে খিল তুলতেও ইচ্ছা হয়,মান ভঞ্জন আশে,সে এক অন্য রকম রোমাঞ্চ, মিঠেকড়া ব্যাপার স্যাপার। তবে ফাঁকফোকর গ’লে সেখানে কেউ ছায়ার আশ্রয় পায়নি সে কথা কি হলপ্ করে বলা যায়?
সে যাইহোক একপ্রান্ত থেকে বালার্ক সবকিছু নিজের বশে করে নেয়, সেখান থেকে সরে যায় এমন সাধ্য কার?
আলোছায়ায় চলতে চলতে ভালোবসা নবপত্রের মত ফলে ফুলে ভ’রে যায়।
কয়েক পলক ফেলে দেখি কেমন উরু উরু পাতা। সবুজটা কেমন কালোর সাথে মিশে অন্য শেড দিচ্ছে।
বুকের লাভডুব ভীষণ জোরদার হয় ।
অনিশ্চিত ভায়োলিনে প্যাথোজ বাজে,অন্দরমহলে।
কেমন করে যেন মন অতি সংরক্ষণশীল হতে থাকে,তাকে হারাবার ভয় যেন কেউ ইঞ্জেক্ট করে শিরায় উপশিরায়।
এখন যখন তখন ঝগড়া করার বাসনাটা মুখ লুকিয়ে ফেলে। যখন সে দেখে তার দেখা মানুষটা যখন তখন ঘেমে ওঠে,ডাবের জল তার মুখে তুলে দিতে বচসা শুরু হয়,কিন্তু এবার সে বাক্যান্তরে যায় না, বরং বুঝিয়ে সুঝিয়ে কাজ হাসিলের চেষ্টা করে।
যৌবনের মানুষটা কেবল চোখের সামনে অচেনা হতে থাকে,প্রথমে তার চশমা লাগে, ক্রমশ লেন্স পুরু হতে থাকে,সে বেদনা অসহ্য।
পাতাগুলো কেবল গাঢ় হ’তে হ’তে খসতে থাকে।
শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি,ডাক্তার,বদ্যি,হাসপাতাল।
কোনোরকমে যমে মানুষে টানাটানি করে যে মানুষটা ফেরে সে যেন অন্য মানুষ।উদাস দৃষ্টি, বাসনে কোসনে ঝনঝন্ শব্দ নেই।
না, এমন ধারা বাঁচা বড় নিরামিষ লাগে।
বুকে বুকে লেপ্টে থাকা মানুষটা হটাৎ পিতৃস্থানীয় হয়ে যায়।
মন কিন্তু ক্রমাগত ছুঁচসুতো দিয়ে রিফু করে টিকিয়ে রাখতে চায়, প্রাণের মানুষটিকে।
কখনো পিতৃ স্নেহে, কখনো সন্তান স্নেহে, ঠাকুরের পায়ের ফুল তার মাথায় ঠেকায়,তাকে আগের মানুষ করবে বলে।
সেই টগবগে যৌবনমদে মত্ত মানুষ কে খোঁজে, মনে পড়ে ভিক্টোরিয়ায় হাতে হাত জড়িয়ে বসে থাকা,আউটরাম ঘাটের নৌকাবিহার।
শুধু স্মৃতির গভীরে ডুবে যাওয়া,পুরোনো প্রেমের চর্বিতচর্বন।
ধীরেধীরে মানুষটির বিছানার রবারক্লথ সরানোর স্বপ্ন দেখে মন,আর পুরনো খুনসুটি ঝগড়া, মান অভিমান,প্রচন্ড প্রেম, সবকিছু ওই দুটি শীর্ণ হাত ধরে বসে ভাবতে থাকে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।