ক্যাফে প্রবন্ধে মঞ্জুশ্রী মণ্ডল

নিবাস হুগলি জেলার তারকেশ্বর থানার অন্তর্গত রামনগর গ্রামে।পিতা স্বর্গীয় দুলাল চন্দ্র দাস। মাতা স্বর্গীয়া পুষ্প লতা দাস। শৈশব থেকেই লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার।অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী।স্নাতক ও প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষিকা । সাহিত্যচর্চা , বাগান তৈরি, গান শোনা,বই পড়া কবিতা লেখা আমার শখ ।আমার সকল সাফল্যের পিছনে আমার মা ,দাদা, ছোটদি ও জামাই বাবুর অবদান অনস্বীকার্য। আমার একক ই-বুক হল চেতনার সন্ধানে, অনুকবিতা গুচ্ছ ও জাগরনী।এবং যৌথ মুদ্রিত কাব্যগ্রন্থ শব্দনোলক।

সম্বোধন (তুই, তুমি, আপনি )

মা-বাবা সন্তানকে তুই বলেন। কখনো তুমিও বলেন। এই তুই বলার মধ্যে বা তুমি বলার মধ্যে এক আন্তরিকতা ,স্নেহ-ভালোবাসা ,টান জড়িয়ে থাকে।
সহপাঠীদের তুই বা তুমি বলা হয় আবার তুই বা তুমি থেকে বন্ধুত্ব তৈরি হয় ।এক কথায় তুই বা তুমি টা খুব কাছের করে দেয়।
বাড়িতে বড়দের তুমি বলা হয়। এই তুমির মধ্যে
শ্রদ্ধা ও সম্মান সহ ভালোবাসা লুকানো থাকে।
আমাদের খুব কাছের, খুব পরিচিত মানুষদের মধ্যেই তুই বা তুমি সম্বোধনটা জড়িয়ে থাকে ।তৈরী হয়ে থাকে।

আমরা সাধারণত অপরিচিত প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষদের আপনি বলে সম্বোধন করে থাকি। কিংবা খুব জ্ঞানী বা শ্রদ্ধেয় মানুষ কেও আপনি বলে সম্বোধন করে থাকি।আর হ্যা এটাই চিরাচরিত হয়ে আসছে। ছোটদের তুই বা তুমি বলে সম্বোধন করে থাকি অপরিচিত হলেও।
এ পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই আছে।

কিন্তু যদি আমরা অপরিচিত বয়স্ক মানুষকে যাদের খুব সাধারন পেশা (যদিও কোন কাজ ছোট নয়) যেমন রিকশাচালক, কুলি ,ট্যাক্সিচালক, টোটো চালক, জেলে, মুচি, বা ফুটপাতবাসী এই সমস্ত মানুষগুলোর সান্নিধ্যে আসি অনেকেই তাঁদের তুই বলে সম্বোধন করি।
কারণ আমাদের মধ্যে অনেকেই মানুষের টাকা পয়সা দেখে বিচার করি।মানুষের পেশা দেখে বিচার করি আর তাই এই ধরনের সম্বোধন করতে দ্বিধাবোধ করি না।

প্রত্যেক মানুষের আত্মসম্মান আছে ,প্রত্যেক মানুষের নিজস্বতা আছে। হতে পারে সে বা তিনি শিক্ষিত হয়েও চাকরি না পেয়ে সেই পেশায় এসেছেন।
হতে পারে তিনি বংশ মর্যাদায় যথেষ্ট উঁচু কিন্তু পরিস্থিতির চাপে পড়ে সেই জায়গায় এসেছেন।
হ্যাঁ ,মানুষ সবাই সমান ।কোন না কোন পরিস্থিতির চাপে মানুষ হয়তো ঐ পেশায় যুক্ত হন। তিনিও মানুষ, তাঁর মধ্যেও আত্মমর্যাদাবোধ রয়েছে।

আমরা যদি প্রকৃত মানুষ হই তাহলে আমাদের উচিত প্রত্যেকে মানুষকে যথাযথ শ্রদ্ধা ,সম্মান দিয়ে কথা বলা। প্রত্যেকটা মানুষকে উপযুক্ত মর্যাদা দেওয়া উচিৎ। অনেকেই আপনি র যোগ্য নয় এমন কত পদাধিকার মানুষ আছে যারা কলমের খোঁচায় প্রতারণা করে চলেছেন কত মানুষকে। তাদেরকে আমরা অনেকেই মশাই মশাই করি। কিন্তু সত্যিই কি তারা আপনি সম্বোধনের যোগ্য?

আসুন, আমরা সবাই প্রতিটা মানুষকে যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান নিবেদন করি । উপযুক্ত মর্যাদা প্রদান করি।
কারণ আমাদের পরিচয় আমাদের নিজের ব্যবহারে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।