মার্গে অনন্য সম্মান মৃণাল কান্তি পণ্ডিত (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা নং – ১২৫
বিষয় – বসন্ত কি শুধুই প্রেম নিয়ে আসে?
বসন্তের হোলি ফাগুন স্বপন
বসন্ত আমায় কবেই দিয়েছে ছুটি
মন রাঙাতে তাই যে আমার এক্কেবারেই মানা!
আবির রাঙা হোলির আকাশ,
হয়তো তাই দেখতে ছায়া ঘেরা,মৃত জোছনা
কান্নার প্রস্রবণ, লাবণ্য হারা সুর আর্তির মূর্ছনা।
গোধূলির আমন্ত্রণে রোজ তার সূর্য ডুবে,
আনমনে রোজ সন্ধ্যায় সে প্রণয়পত্রে
লিখে যায় মনের খেয়াল খুশির সব কথা
লিখে পাতা ঝরার কান্নার ফোয়ারা দুঃখ যাতনা
হাপিত্যেসে ডুবন্ত স্বপ্নের যন্ত্রণার অথৈ বেদনা।
বসন্তরাগ ধন্দে পড়ে তবুও সে গায় গান
গান গায় নিস্তব্ধ স্টেশনের বন্ধশ্বাসে
ট্রেনের শেষ প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন রেখে ‘মানুষ কেন জরা’
অলীক ভাবনায় ফলন্ত অন্তমিল কেন সত্বা হারা
অসুস্থ ঘুমে অন্তরার ভাষা কেন অবজ্ঞায় ভরা?
নির্ভীক চোখে কেন বসন্ত মৌন মুখর আবেগ ছাড়া
বুকের ভেতর অন্তরাগের মঞ্জরী কেন বিষাদ যন্ত্রণা?
সুরভরা গানের বাড়িটি কেন আজ সঙ্গীত হারা!
এমন কত স্মৃতি অলক্ষ্যে আজও করে হুটোপুটি !
পাঁকের জলে এমনি করেই করে খায় সে লুটোপুটি।
বসন্ত আজ নিদ্রিত চোখে নিস্তব্ধ,অবলার গুঞ্জন
মরমে গাঁথা রাশি রাশি দোঁহের জমায়েত মেলা,
হৃদয় কুঠুরির নিভে যাওয়া ঝাড়বাতি, মহা তমসা
অনন্ত বিশ্বাসের দখিনা বাতাস নতজানু অভিসার
জীবনের অভিযানে হোলির প্রলয়নৃত্য রণহুংকার।
ইমন আজ আশাহত বেসামাল বিলম্বিত বিলাবল
হাহুতাশে হারিয়েছে পথ,ফিরাইয়াছে মুখ লজ্জায়
বসন্তের হোলি ফাগুন স্বপন তাই বিষাদের আবাহন
নতুন করে ফাগুনের পরিচয় আবার নেবো জেনে
ভোরের কোকিলের কুহুতানে কিংবা পথের কোন এক হ্যালোজেনে!