T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় মনীষা কর বাগচী
by
·
Published
· Updated
মনে শান্তি ছিল
ভারতবর্ষ স্বাধীন হল
পাকিস্তান আলাদা দেশ হল
একটা ভালো বাসাকে ভেঙে টুকরো টুকরো করা হল।
ভালো হল???
ভাঙা হল মানুষের ঘর, উঠোন, পরিবার, মন।
সুখ, শান্তি, প্রেম
কাঁটাতারে ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত হল…
এতগুলো বছর উদ্বাস্তু নাম নিয়ে বেঁচে থাকতে হল,
চোখ ভর্তি জল নিয়ে চলে গেল কত মানুষ।
আফশোস, ঠাম্মা, ঠাকুরভাই দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ফেলতে চলে গেলেন।
ছোট্ ঠাকুরভাই, ছোট্ ঠাম্মাও অনাথের মত চলে গেলেন একদিন।
খুব কষ্ট হল…
গোলা ভরা ধান ছিল, সবুজে শ্যামলিমায় সাজানো গ্রাম ছিল।
গোয়ালে গরু, পুকুরে মাছ, গাছে ফল ছিল,
অল্পতে সন্তুষ্টি ছিল…
মনে শান্তি ছিল।
বাড়িতে দুর্গাপূজা ছিল, যাত্রাগান ছিল, কীর্তন ছিল, হরিসভা ছিল, রূপকথার আসর ছিল, অতিথি আপ্যায়ন ছিল,একান্নবর্তী পরিবার ছিল, হিন্দু মুসলিম ভাই-ভাই ছিল
মনে শান্তি ছিল।
এখন জমি নেই, গোলা ভরা ধান নেই,বলছে পান নেই,
পুকুর নেই, সানবাঁধানো ঘাট নেই, নদী নেই, হোগলার বন নেই,
দোয়াড়ে মাছ ধরা নেই, জাল ফেলা নেই,
বেঁচে থাকা আছে,
জাষ্ট বেঁচে থাকা…
সরকার নাগরিকত্ব দিচ্ছে আনন্দ করব কি দুঃখ ?
নাগরিকত্ব কারো ক্ষেতের মুলো কি?
যাদের স্বার্থে দেশ ভাগ হয়েছিল আনন্দ তারাই করুক।
আমার পূর্ব পুরুষদের সমাধিতে একটিও মালা চড়েনি কতকাল, মন্দিরকে না জানি টয়লেট বানিয়েছে কিনা কেউ
আমরা বেঁচে আছি,
জাষ্ট বেঁচে থাকা…
আপন জনের লাশের উপর দিয়ে হেঁটে এসেছে যাঁরা
তাঁরাই জানে দেশ বিভাগের যন্ত্রণা!
কাঁটা তারের দুপাশে এখনও কত পরিবার কাঁদে, কিন্তু…
বোঝে না কেউ, বুঝবেও না।
হায়রে স্বাধীনতা, হায়রে বেঁচে থাকা,
অভিশপ্ত জীবন!
দেশভাগ করানেবালে ঠিক নহী কিয়ে…
একটুও ঠিক করোনি তোমরা।