• Uncategorized
  • 0

T3 || আমি ও রবীন্দ্রনাথ || বিশেষ সংখ্যায় মানসী কবিরাজ

মেট্রোয় রবীন্দ্রনাথ

সকালবেলায় মুহুর্ত কয়েক দেরীর জন্য দমদমমুখী পাতাল ট্রেনটা ,বেড়িয়ে গেল স্টেশন ছেড়ে ।হঠাৎ করেই হাতের মুঠোয় পড়ে পাওয়া বারো মিনিটের অবকাশ , অপেক্ষার চেয়ারের সামনে ঈষৎ ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছিলাম একটি উনিশ কুড়ির সন্ধিক্ষন ডেকে বসতে দিল আমাকে । তাকিয়ে দেখি তাপ্পি দেওয়া জিন্সের প্যান্ট , মেরুন টি শার্ট, বাঁ কানে জলের বিন্দুর মতো ছোট দুল আর ডান হাতে উজ্জ্বল রঙীন ট্যাটু ।
আজকাল সহমর্মিতা শব্দটা যখন শুধুই আভিধানিক হয়ে গেছে,তখন এহেন সৌজন্যলাভে বেশ চমকেই উঠলাম ।ভাবলাম আজ তো তাঁর জন্মদিন হয়তো নেপথ্যে এমন পুন্য আবহের প্রেক্ষাপট আছে বলেই এই আশ্চর্য সমীকরণ । অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তির সেতুবন্ধ হ’লো আলাপচারিতার ধাপেধাপে
– আচ্ছা ,তোমরা মানে জেন ওয়াইরা রবীন্দ্রনাথকে ঠিক কীভাবে ভাবো ?
ছেলেটির সপ্রতিভ উত্তর – তিনি আমাদের জাতীয় সংগীতের স্রষ্টা । তিনি বিশ্বকবি ,তিনি গীতাঞ্জলির জন্য নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন এবং আমরা তাঁকে অনেক সময় গুরুদেব বলে ডাকি ।
উত্তর গুলোতে যে অনেক ইংরেজি শব্দ মিশে ছিল সে কথা বলাই বাহুল্য।
ছেলেটিকে বললাম – ওহ্ শুধু এটুকুই !
সে বলল – না আরও কিছুটা আছে..
– যেমন ?
– যেমন আমার মা যেদিন হাসি মুখে থাকে তখন গুণগুণ করে যে গান করে সেটা ওঁর লেখা, আবার মা যেদিন চোখের জলে থাকে তখন ভরাট গলায় যে গান করে সেটাও ওঁরই লেখা ।
– তবে তো তিনি শুধু তোমার মায়ের মনেই আছেন, তোমার কাছে কেবলই তথ্য ভান্ডার ! গুগুল ঘাঁটলেই যে কেউ বলে দিতে পারে !
স্টেশনের নিয়ন আলোয় ছেলেটার মুখে হঠাৎই বিষন্ন আঁকিবুকি ।
সে বলল – মেধা যেদিন তাকে ছেড়ে চলে যায়,সেদিন সারাটা রাত কানে ইয়ার ফোন গুঁজে মায়ের চোখের জলের দিনের গানগুলোই সে শুনেছিলো, ইউটিউবে খুঁজে খুঁজে ।
আমার আর বলার কিছুই ছিল না ….
বিজ্ঞপ্তি বোর্ডে জ্বলজ্বল করছে দমদমমুখী ট্রেনের সময়সূচি । ধীরে পায়ে এগিয়ে গেলাম পাতাল ট্রেনের দিকে
“আহে দুঃখ , আছে মৃত্যু , বিরহ দহন লাগে
তবুও শান্তি , তবু আনন্দ , তবু অনন্ত জাগে …।।”
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।