হৈচৈ কবিতায় মোর্তজা খোন্দকার

প্রাণের ভাসান

ফুল একদিন ছিল না বর্ণিল, পাপড়ি ছিল না নরম ঠোঁটের মতো
সহস্র নিযুত বছর ধরে বেয়াড়া কিশোরী তৃণ গুল্মেরা নিজ কায়ায়
শান্তিময় বারুদ এক অ্যান্থোসায়ানিন লালন করেছে বুকে
রুক্ষ ঝঞ্ঝাবর্তের রক্ত চোখ উপেক্ষা করে কামনার রুমালে তুলেছে
রতিরঙ, পৃথিবীর নরম মায়ায় তার অনুরূপ রেখে যেতে
পরাগ নিয়েছে মুখে, বর্ণময় কুসুমে পেতেছে প্রিয় অলির বিছানা …
তার এই নিগূঢ় সুদূর উত্তরণ এই মহাশূন্য বিশ্বে বয়ে নিয়ে গেছে
নির্বাক কোষস্রোতে…
যদি এই নিশ্ছিদ্র বিরূপ বিশ্বে প্রাণের ভাসান বোঝে জীবনের সুর
তার কাছে প্রেমময় ফুল হয়ে ফোটার সংগ্রামে লুটোপুটি
খায় না কেন আশাপ্রভ রঙীন মাছেরা! গুনগুন করে ধেয়ে
আসবার কথা নির্গ্রন্থ মানবপূর্ব লক্ষ কোটী প্রজাতির অহি…
তোমার আমার, নিতান্ত ছোট ছিল কথা।
নিতান্ত সহজ ছিল গুহা থেকে নির্গমনের সোৎসাহ
সাম্যের বারতা….
কোনো নীহারিকা পুঞ্জের ঘুর্ণন বিধি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ছিল না
ছিল না, জ্বলন্ত অভিমানে ছিটকে আসা ধরিত্রীর
অর্ব্বুদ বছরের ধিকিধিকি নিভন্ত ক্ষয় কান পেতে শোনা…!
তোমার আমার কথা ছিল, যা পাবো
ভাগ করে এক সাথে খাবো….
ঊসর যাত্রায় চোখ থেকে গড়ানো রুধির
সংগ্রামী ফুলের কোমল ধৈর্য পরশে মোছাবো ….
এখানে বিস্মরণের নেই কোনো ঠাঁই…
সমস্ত অর্জন পুঁটুলি নিয়ে মহাশীর্ষ থেকে
পতনের তরে পাতা আছে চড়াই উতরাই ..।।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।