হাত ইশারা করতেই সিএনজি থামল। অর্চি ড্রাইভারের দিকে তাকিয়েই চমকে উঠল। গোঁফের বাহার দুই দিকে বিশাল ঢেউয়ের মত প্যাচানো। অর্চিকে নিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করল। কৌতুহল বসত অর্চি জিজ্ঞেস করল– আচ্ছা, আংকেল আপনার গোঁফ এত বড় কেন রাখলেন?
ড্রাইভার লোকটা গাড়ি থামিয়ে পিছনে না ফিরেই জবাব দিল– আপনি গাড়ি থেইকা নাইমা যান।
অর্চি ঘাবড়ে গেল। এই রাতবিরাতে একলা কিভাবে বাসায় পৌছাবে। তাই কাচুমাচু স্বরে বলল — আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে মাফ করে দিন।
এবার ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিল নতুন করে।
অর্চি তখন বুকে হাত রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
হঠাৎ মনে হল ড্রাইভারের সিটে লোকটা নেই বরং একটা শাড়ি পরা মহিলা খোলাচুলে বসে আছে।কাল্পনিক ভয় চেপে বসল অর্চির মনে।
কে যেন অর্চির কাঁধে হাত রাখল। নিঃশ্বাসের গরম বাতাস ঘারের ওপর লাগছে।গাড়ি তখনও আপন গতিতে চলছে। বুকটা ধরফর করতে লাগল অর্চির। গলা শুকিয়ে আসছে। এই বুঝি অজ্ঞান হয়ে যাবে।
ঠিক তখনই পার্সের মধ্যে মোবাইলটা বেজে উঠল। তড়িঘড়ি করে মোবাইলটা বের করে দেখল মায়ের ফোন।
ফোনটা যেই রিসিভ করে কানে লাগাল সেই মুহুর্তেই ড্রাইভার গাড়িটা কষিয়ে ব্রেক ধরল। অর্চিও ঝাঁকুনি খেয়ে সামনের দিকে হামলে পড়ল।
ড্রাইভার বলল– আপামণি, আপনার ঠিকানা মত আইসা পরছি।
অর্চি ফোনে কথা না বলেই দেখতে পাচ্ছে,সেই ড্রাইভার তার সামনে বসে আছে, কোনো মহিলা নেই।
ভাড়া মিটিয়ে অর্চি তাদের বাড়িটার দিকে তাকালো।জানালা দিয়ে মাকে দেখে হাই দিল। ঘরে ঢুকতেই মা বলল — তুই কাকে ব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিলি?
— কেন, সিএনজি ড্রাইভারকে।
এরপর মা যেটা বলল অর্চি সেটা শুনেই থ বনে গেল।
— আমি তো দেখলাম, তুই হেঁটে এসে ঘরের সামনে দাঁড়ালি। তারপর ব্যাগ থেকে টাকা বের করে কাকে যেন দেয়ার ভঙ্গি করলি। তবে একটা জিনিস বুঝলাম না।
অর্চি বলল– কী মা?
তোর পেছনের সেই মহিলাটি কে ছিল?