কর্ণফুলির গল্প বলা সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মনিরুল ইসলাম (পর্ব – ১)
by
·
Published
· Updated
হেরফের
ধরধর যে পালাতে না পারে। —তুমি জোরে দৌড়াও।ওকে ধরতেই হবে। ওর এত বড়াে সাহস, ও আমার মেয়ের দিকে তাকায়। -এই ছোঁড়া দাঁড়া, তাের গুষ্টি মেরে আজ আমি ষষ্ঠি পূজো দেবাে।
চতুই কত দূর যাবি, তােকে আজ দেখেই ছাড়ব।
হাত-কুড়ি সামনে দৌড়াচ্ছে বছর ২৩ -এর রিন্টু মণ্ডল, আর তার পিছনে নবাব আলি ও তার স্ত্রী
রিন্টুকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ। পাট শুকানাে রােদ বিলিক মারছে পিচ্ লাগানাে পাকা রাস্তায়। নবাব
আলির বউ জাহানারা ছুটতে গিয়ে শাড়ি জড়িয়ে আছাড় খেয়ে পড়ল রাস্তায়। রাস্তাকে সজোরে চুম্বন
করতেই একটা দাঁত ভেঙে পড়ল রাস্তার উপর।
ওরে বাবারে – আমার দাঁত গুলাে সব বােধ হয় ভাঙলাে রে…
—তুমি একটু দেখে চলতে পারাে না?
পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে নবাব ধরতে না পারার সমস্ত আক্রোশ যেন বউয়ের উপর বাড়তে লাগল। বুড়াে মিনসে আমার ভেঙেছে দাঁত, আর আমার উপর যত রাগ।
-ভাঙুকনা – তােমার সমস্ত দাঁতগুলাে ভাঙুক। আজ তােমার জন্য যত সব—
–হ্যা – আমি তাে
-তুমি না তাে কে শুনি?
জাহানারার ঝগড়া মিশ্রিত কান্নার শব্দে রাস্তায় তানেক লােকজন জমা হয়ে গেল। তারা সবাই
ধরাধরি করে জাহানারার মাথায় পানি দিতে লাগল। চারিদিক থেকে নানান প্রশ্ন ছুটে আসছে – কি করে
হল এান – পড়লে কিভাবে – দৌড়াচ্ছিলে কেন? কেউ জিজ্ঞাসা করল রিন্টুকে তাড়া করছ কেন – এই
সব প্রশ্নবাণে জর্জরিত হতে থাকল। সাধে কি আর দৌড়াচ্ছিলাম। ওই ড্যাকরা হা-ভেতে সাজান ছেলে মানুষ করে নি তাে, শাের মায করেছে।হাঁটকুড়াে আমার মেয়েটাকে সবসময় রাস্তা-ঘাটে পথ আটকায়। বেন কি করেছে তাের মেয়ে -সহর জান বলে উঠল।