সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে মন্দিরা হাজরা (বসু) (পর্ব – ১০)

আমার শল্যপর্বের দ্বিতীয়ার্ধও নিজগুনে ঘটনাবহূল হয়ে উঠেছিল । এই দ্বিতীয় অস্ত্রপ্রচারটি  সামান্য জটিল হবার কারনে ( শোনাযায় প্রায় ঘন্টা চারেক আমি অপারেশন থিয়েটার এবং তদ্পরবর্তী তোষাখানা বা রিকোভারি রুমে  কেবল বন্দীই  ছিলাম না, অর্ধচেতনায় দুই শ্রুশ্রূষাকারিনীকে প্রায় চপেটাঘাত করতে গিয়েছিলাম )। আমার উপর সেইরাত্রে  ঘন্টায় ঘন্টায় নজরদারী করার নির্দেশ ছিল । মাঝরাতে কানের কাটা জায়গাটি  থেকে  খানিকটা  রক্তপাত হবার ফলে আমার বালিশটি  কিঞ্চিত  ভিজে যায় । ধাত্রীবিদ্যায় কাজ করার দরুন এ সব ব্যাপারে কমপক্ষে লিটারখানিক খরচা হবার আগে আমরা ভ্রুক্ষেপও করিনা । কর্ণবিদরা দেখলাম বিন্দুতেই সিন্ধুদর্শন করে থাকেন । তক্ষুনি  তক্ষুনি জনাদুয়েক সহসেবিকা, একজন নার্স এবং একজন ডাক্তারদিদি দৌড়ে এলেন । এদের একজন বিছানার পাশে নতজানু হয়ে আহা উহু করতে লাগলেন , একজন দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এলেন এক পেয়ালা ধূমায়িত চা , একজন যুদ্ধকালীন ক্ষিপ্রতায় পালটিয়ে ফেললেন যাবতীয় বিছানা বালিস আর ডাক্তারদিদিটি  কাটা জায়গাটায় খানিক উঁকিঝুঁকি  দিয়ে নানান আশার বাণী শোনাতে লাগলেন । এই  সমবেত  আদিখ্যেতায় আমি যারপরনাই অভিভূত হয়ে পড়লাম এবং এঁদের এতাব্দধি করে আসা যাবতীয় সাজানো সহানুভূতি , মেকী হাসি এবং খুচরোখাচরা চিকিচ্ছেবিভ্রাট পাইকারী রেটে মাপ করে দিলাম । পরে অবশ্য এই স্প্লিট্-সেকেন্ড প্রেমের ঠাকুর হবার কিছু মাশুল আমাকে গুনতে হয়েছিল । তবে সে অন্য গল্প ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।