সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে মন্দিরা হাজরা (বসু) (পর্ব – ৪)

গত পাঁচমাসে বার ছয়েক হাসপাতালে ভর্তি হওযার সুবাদে আমার হাসপাতালের ” সুখাদ্যের” আস্বাদ পাওয়ার সৌভাগ্য হয় । এখানের ডিনারলেডিরা বেশ ইন্টারেস্টিং প্রজাতি । এরা রোগীদের “সুইটহার্ট ” বলে সম্বোধন করেন এবং হাসিমুখে অখাদ্য পরিবেশন করেন । আবার একটি চারপাতা মেনুকার্ডও আছে ! নেংটির বুকপকেট আর কি । একমাত্র বিল বা টিপস্ দিতে হয় না বলেই বোধহয় বলেই এই মেনুকার্ডের মানসিক অত্যাচারটা ক্রমশঃ সহনীয় হয়ে আসে।
এরা ভারী মিষ্টি হেসে আধঘন্টায় আহারপর্ব সমাধা করার কড়া নির্দেশ দেন কারন এনাদের শাস্ত্রমতে অন্যথায় এগুলি রোগজীবানুর মহাভোজে পরিণত হবে । ব্যাকটেরিয়ারা এত্যাবধি বাকশক্তিহীন ; নতুবা এ অপবাদ এতদিনে তাদেরও অসহ্য হয়ে উঠতো । অনুরোধে আমরা ঢেঁকিও গিলে থাকি । দেখা গেল মাত্র তিনদিনের অভ্যাসেই আমি সোনামুখ করে চর্মময় মুর্গী , সেদ্ধ আলুর ঢিপি , কচকচে বাঁধাকপির কুচি যে দিব্যি গলাধঃকরণ করছি তাইই নয; এনাদের গদগদ ভাবে ধন্যবাদও দিচ্ছি ।
খেয়াল করে থাকতে পারেন হয়তো , যে ইদানীং হাসপাতালগুলিতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা একটি ” হিপ এন্ড হ্যাপেনিং ” ব্যাপার ।৷৷ স্থানে স্থানে খুফিয়া ক্যামেরা সম্ভাব্য অপরাধীদের নজর করে এবং যান্ত্রিক দৈববাণী দ্বারা হস্তপ্রক্ষালনের কথা মনে করিয়ে দেয় । বলাবাহূল্য আমার ঘরটিও যথেষ্ট ধোওয়া মোছা হতো । আমি খেয়াল করে দেখেছি যে এনারা রীতিমতন ট্রেনিং প্রাপ্তা এবং নিজ নিজ ফিল্ডে বিশেষজ্ঞা বিশেষ । উদাহরণ স্বরূপ , একজন মেঝে ও আসবাবপত্র মুছতেন, একজন বাথরুমের সিঙ্ক ঝক্ঝকে করতেন এবং তৃতীয়জন আবর্জনার বিন খালি করতেন । এঁরা অতীব কর্তব্য পরায়ণা এবং আমার ঘরটি মোটামুটি টিপটপই থাকতো বলে আন্তরিকভাবে মনঃক্ষুন্ন হতেন ।
আমি স্বচক্ষে মাঝরাতের নিঃসঙ্গ করিডোরে বড়ো পরিস্কর্ত্রী দিদিমনিকে শিক্ষানবীসি ছোটো পরিস্কর্ত্রী দিদিমনির ঝাঁটার স্ট্রোক একেবারে হ্যান্ডস্ অন ভাবে শুধরে দিতে দেখেছি । এখানে বলে রাখা ভাল যে সন্দেহবাতিকগ্রস্তরা কোনো ছুতোয় ( বালাই ষাঠ, অসুখ-বিসুখ না হয় !)
দু-এক রাত এডমিশন নিয়ে হাতেকলমে যাচাই করে দেখতে পারেন এবং এই হাসপাতালের হাউসকিপিং কতৃপক্ষ হইতে আমি কমিশন পাই না।