সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে মন্দিরা হাজরা (বসু) (পর্ব – ৩)

এন এইচ এস এর একটি  মহান গুণ হলো  যে  সবকিছুই  সুপারলেটিভ  ফর্ম এ বলা হয । উদাহরণ  স্বরূপ  কেউ  যদি  বলে  ” ইউ  আর  গুড ”  তবে  বুঝবেন  তার  মতে  আপনি  এত  খারাপ, এতই খারাপ  যে  কহতব্য  নয় । এই “স্নেহ”ময়ী সেবিকার  দল  নিযমিত  প্রাতঃকর্ম  সমাধা হয়েছে কিনা জানতে চাইতেন এবং উত্তর সন্তোষজনক হলে  বিশেষ  বিশেষ  বিশেষণে  ভূষিত করতেন । এর  ফলে  কিছুদিনের  ভিতর  আমার  রীতিমত  আত্মশ্লাঘা  বোধ হতে লাগলো  যে  আমি  “ব্রিলিয়্যান্টলি ”  জলত্যাগ, ” মার্ভেলাসলি” –লত্যাগ ( জলের  সাথে  অন্ত্যমিল  দিয়ে  অনুমান  করে  নিন )  এবং  ” এক্সেলেন্টলি ”   দন্তমার্জনা   করতে  পারি ।  তবে  এই  মর্নিঙ  হাই  এর মেয়াদ  বড়ই  ক্ষণস্থাযী  হত,  কারন  এর  পরপরই  দলবদ্ধ  ডাক্তাররা  তাঁদের  ওয়ার্ড্-রাউন্ডে  ধরাশায়ী আমাকে  সপ্তরথীর  মতো  ঘিরে  ধরে  ডাক্তারি  প্রশ্নবানে জেরবার  করে  দিতেন ।
এই  ডাক্তারি  প্রশ্নমালা  একটি  বিচিত্র  বস্তু ।  আমি  নিজে যখন  এই অত্যাচার  নিযমিত  করে  এসেছি  তখন  ভেবে  দেখিনি  যে , এর উল্টো বাগে যারা থাকে তাদের  কেমন  লাগে এই  লাগাতার  উপদ্রব ।  এগুলি  শুরু  হয় নাম , গোত্র ( গৌরবে  এথনিক  ওরিজিন ),  নিবাস  ইত্যাদি  আপাত  নিরামিষ  প্রশ্ন  গুলি  দিয়ে ।  এঁরা খাপ খোলেন  ” ফ্যামিলি  এন্ড  পার্সোনাল”  বিভাগে সেঁধোনোর  পর।  যেমন  ধরুন  –  আপনার  বাবার  কবে  আক্কেল  দাঁত   উঠেছিল ?  আপনার  মাতামহীর  সুরাসক্তি  আছে  কিনা?  আপনার দু-চারটি  ছুটকো  ছাটকা  ( অবশ্যই  বিবাহ  বর্হিভূত )  ঝামেলা  জাত  সন্তানাদির  বয়স  কত ? ( অথার্স লিবর্টি  নিলেও প্রশ্ন  গুলি  বেশ  কাছাকাছি যায় )  ইত্যাদি, ইত্যাদি ।  নিয়তির  এক  কুটিল  চক্রান্তে  ” ওজন  কত ? ”  প্রশ্নটি  সর্বদা জিগানো  হতো  আমার  স্বামী  বা  আমার  টিনএজ  পুত্রের  সামনে ।  এদের  আমি  নির্ভেজাল  মিথ্যাভাষণ করি  এবং  এরা গৃহশান্তির  সুবাদে  নির্দ্ধিধায়  মেনে  নেয় । নির্দয়া  নার্সরা সরল  মুখে  উত্তরটি  লিখে  নিতেন  বটে,  কিন্তু  তার  পাঁচ মিনিট  পরেই  ওজন  মেশিন  এনে তার  উপর  দাঁড়াতে  বলতেন ।  এইসময়টায়  আমার  স্বামী  খুবই  কষ্ট  করে গম্ভীর  হয়ে   থাকতেন  এবং  আমার  এমন  কোন  পূণ্যবল  নেই  যে  মা ধরণী  দ্বিধা  হয়ে  আমার  খানিকটা  অন্ততঃ  গ্রাস করে আমার  ভার  লাঘব  করেন । আমাকে  মেশিনের  উপর  দাঁড়াতেই  হতো ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।