সাপ্তাহিক রম্য সাহিত্যে মন্দিরা হাজরা (বসু) (পর্ব – ১১)

এই  দ্বিতীয় অপারেশনটির পর আমি বেশ সুস্থ হয়ে উঠি  তবে এ মধুচন্দ্রিমা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি ।  এতদূর যদি এ প্রলাপ আপনারদের সহ্য হয়ে থাকে তবে সাহস করে বাকিটাও বলেই ফেলা যাক ।  যে তিনজন শল্যবিদের স্পর্শধন্য হবার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, তাঁরা সকলেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে যথেষ্ট পারদর্শী বলেই আমার বিশ্বাস । তাই এঁদের ভরসায় আমার জন্মসূত্রে প্রাপ্ত  কান  টি  পেতে দিতে   আমার দ্বিধা হয়নি ।  আগেই বলেছি যে সার্জেনরা অত্যন্ত কর্মঠ প্রাণী । এঁরা  সবাই  কথা-কম (  শুধু অপারেশনের কনসেন্ট ফর্ম ভর্তি  করার সময় যেটুকু মুখ না খুললেই নয় সেটুকু ছাড়া ) কাজ- বেশী ( যথাসাধ্য আমাকে কান-কাটা করে তোলা ) নীতির একনিষ্ঠ সাধক ।
শল্যগৃহের নানান মেশিনের পিঁপ পিঁপ ( হার্ট মনিটর ), বিপ-বিপ-বিপ ( অজ্ঞান মেশিন ) , হুউস হুউস (অক্সিজেন সিলিন্ডার  খোলা  ও বন্ধ ) , টরা টকা টক্  ( নাবালিকা  নার্সদের  কম্পু  চালনা ) , ঝন্ ঝনাত্ ঝন্ ( সাবালিকা নার্সদের অস্ত্র শস্ত্র গননা ) ইত্যাদি সমবেত গুঞ্জনধ্বনি  ছাপিয়ে তাঁদের মুখোসাবৃত মুখের অমৃতবাণী  আমার আধাবিগড়ানো কানে বিশেষ প্রবেশ করতে পারেনি । অপেক্ষাকৃত সুস্থ কানটি যেটুকু  শুনেছিল তা আবার মগজে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে যায় কারন বুজে যাওয়া কানটি দিয়ে সেসব বেরিয়ে যাবার শর্টকাটটি খোলা ছিল না ।  মোদ্দা কথা হল এসব জেনেশুনেই  আমার কান টি আমি  দান করেছিলাম । এর প্রাপ্তিযোগ সম্বন্ধে আজ আর কোন আপশোস করার কারণ দেখিনা ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।