ক্যাফে ধারাবাহিক গল্পে মনোরঞ্জন ঘোষাল (পর্ব – ৭)

টলি ট্যাব আবিষ্কার
ধোঁয়া বা বাতাস ভাল বা খারাপ মানে বিষাক্ত হতে পারে। তা বাতাসে অন্যত্র কোথাও থেকে বহন করে এখানে আনতে পারে। তবে বাতাসের চলা চল তো হচ্ছে না। ও সব তো আর গুটি গুঠি পায়ে হেঁটে আসবে না, ওদেরকে ঠেলে আনতে হয়। সেই ঠেলাতে পাতা নড়বে, গায়ে মালুম হবে যে ওরা বয়ে চলেছে।
আর ছায়া, তার জন্য তো আলোর সামনে কোন বাধা থাকার প্রয়োজন। তেমন তো কিছুই দেখতে পেলাম না।
মনে উদ্বেগ নিয়ে সেখান থেকে ফিরে এসে চ্যাটাই এর ওপর বসে পড়লাম। দেখলাম সে তার ওপর আমার আসার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে আছে। ফেরা মাত্রই ডেনিয়ল প্রচণ্ড উৎসাহ নিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল- “কিছু দেখতে পেলে?”
আমি অসফল এক জন মানুষের মত মুখটা গোমড়া করে তাকে উত্তর দিলাম-“না।“
আমার উত্তর শুনে তার মুখটা ছোট হয়ে গেল,চেয়ে দেখলাম। কিছুক্ষণ মাথাটা নিচু করে থেকে সে বলল- “চল তাহলে খেয়ে আসি।“
আর মুখে উত্তর দিতে পারলাম না। মাথায় তখন বিদ্যুৎ গতিতে চিন্তা শক্তি ছুটে বেড়াচ্ছে। হাত দেখিয়ে বললাম- “তুমি যাও। আমি একটু পরে আসছি।“
সে পাশে থেকে উঠে ঘরে চলে গেল। আমি অধীর আগ্রহে আবার সেই ঘটনা প্রত্যক্ষ করবো বলে বসে আছি। অনেকটা সময় অতিবাহিত হল তবু সেই ঘটনার আর প্রত্যাবর্তন ঘটল না। বুঝলাম আলোতে কিছু অসুবিধা হচ্ছে ওদের। কে ওরা বা কী? তা কিছুই মালুম করতে পারছি না। তবে যেন মনে হচ্ছে কিছু একটা!
জোনাকি টিকে ইঁদুরের খাঁচার ওপর থেকে তুলে নিয়ে বন্ধ করে পকেটে ঢুকিয়ে রাখলাম। চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেল। একেবারে সামনেই রয়েছে খাঁচা। আর তার মধ্যে বন্দি রয়েছে ইঁদুর গুলি। আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। সব কালো অন্ধকার ময় হয়ে রয়েছে। আকাশে চাঁদ এখনো ওঠে নি। উঠলেও মনে হয় ঘন গাছের ঠেস পাতা ভেদ করে তার জোছনার আলো মাটিতে পড়তে সমর্থ হবে না।
হঠাৎ কানে খস খস শব্দ ভেসে এল! তাড়াতাড়ি সেই চ্যাটাই এর ওপর কান পেতে শুয়ে পড়লাম! শুনতে পাচ্ছি যেন বিশাল আকারের ময়াল সাপ সড় সড় করে এগিয়ে আসছে এই দিকে! মনে মনে খুব ভয় পেয়ে গেলাম! ধড় ফড় করে উঠে বসে পড়লাম! কান খাড়া করে চুপ করে সাহস ধরে বসে রইলাম বাতাসে সেই শব্দ শুনবো বলে! কী আশ্চর্য! তখন আর কোন শব্দ কানে আসছে না!
ভয়টা কেটে গেল। বুঝলাম যা কিছু আসছে তা মাটির নীচে দিয়ে আসছে। তাই তার শব্দ ধ্বনি বায়ু মাধ্যমে বিস্তার হচ্ছে না! এক অদ্ভুত কাণ্ড বলে মনে হল! মরুভূমি এলাকায় বায়ুর মধ্য দিয়ে বিষাক্ত সাপরা এমন ভাবে যায়। শিকার আন্দাজ লাগাতে পারে না। শিকারের কাছা কাছি গিয়ে তার গন্ধ শুঁকে বালি ফুঁড়ে ঠেলে উঠে ধরে নেয় শিকারকে। এখানে তেমন কিছু ঘটতে চলেছে কি? মনে মনে ভয় পেলাম। আবার মনকে বোঝালাম এখানে এই শক্ত মাটিতে তেমন ঘটনা ঘটা প্রায় অসম্ভব। তা ছাড়া এ সব কাজে একটু ঝুঁকি নিতেই হয়। তাই
আবার শুয়ে পড়লাম সেই চ্যাটাইতে। মাটিতে কান পেতে আছি! আবার সেই সড় সড় করে বেয়ে চলার শব্দ কর্ণ কুহরকে রোমাঞ্চিত করছে! শুনতে পাচ্ছি ক্রমেই সে শব্দ যেন কাছে সরে আসছে! ইঁদুর ছানা গুলো যেন ভয়ে ছটফট করছে বলে মনে হতে লাগল। তাদের সেই ছটফটানি দ্রুত থেকে দ্রুত তর হয়ে উঠছে!
এবার মনে হল তাদের যেন কিছু আষ্টে পৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে! বুঝতে পারছি যেন আল্ট্রা শব্দে তারা মৃত্যুর পূর্বের আর্তনাদ ছড়িয়ে দিচ্ছে বাতাসে! মাটিতে সেই আর্তনাদ অনুনাদিত হয়ে গম গম করে উঠছে! আমার সুপার শ্রুত কানে আমি সেই শব্দ শুনতে পাচ্ছি। আমি বুঝলাম এই সঠিক সময়। অতি দ্রুততায় পকেটের টর্চটি বের করে তাক করে জ্বেলে দিলাম সেই খাঁচাটি লক্ষ্যঃ করে!
কই! কিছুই নেই তো! শুধু খাঁচার মধ্যে ইঁদুর গুলো মরে পড়ে রয়েছে!
কী অবাক কাণ্ড!
ভোজ বাজির মত কোন অদৃশ্য শক্তি তাদেরকে মেরে ফেলে আবার প্রত্যাবর্তন করল। তা আমার মত বিচক্ষণ ব্যক্তিও কিচ্ছু বুঝে উঠতে পারছি না। কেবল চিন্তাই করে চলেছি তার ফল কিছু হাতে আসছে না। মাঝে মধ্যে নিজেকে নিজেই ধিক্কার জানাতে ইচ্ছা করছে। এমন এক তুচ্ছ ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে পারছি না বলে।
ক্রমশ………….
জোনাকিটি বের করে চারিদিকে ভাল করে সার্চ করলাম। সেখানের মাটি পর্যবেক্ষণ করলাম। যদি কোন জন্তুর চলার ছাপ কোথাও পাওয়া যায় তার জন্য।
না। তেমন কোন ক্লু হাতে এল না। ততক্ষণে ডেনিয়ল খাওয়া সেরে আমার কাছে চলে এসেছে।
সেও দেখল ইঁদুর গুলো মরে পড়ে আছে। ও আমাকে বলল- “ওই ইঁদুর গুলো দেখ? মনে হবে সুতো দিয়ে পেঁচিয়ে মারা হয়েছে।“
দেখলাম তাই তো! এমন ভাবে ওদের পেঁচিয়ে ধরল কিসে? আর সে মুহূর্তের মধ্যে গেলই বা কোথায়?