মার্গে অনন্য সম্মান মিতা দাস বিশ্বাস (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব-১১৩
বিষয়-মরশুম
মায়ের আবদার
হ্যাঁরে বেটা সেই আলু সেই কদু কিনে আনতেছিস ক্যান?
শীতের মরশুম এখন সেটা কি নেই তোর ধ্যান?
ফুল আর সব্জীতে বাজার ভরা এখন,
তোর সেই একই জিনিষ কোথায় থাকে মন?
অ বৌ কাল তুই বাজার থিকা খানিক শাক কিনে আনিস তো,
তুই বেছে দিবি আমি জুত করে রাধব।
শাকের মরশুমে শাক খাব না এ কেমন কথা,
ছোলার শাক,মেথির শাক,পালঙ্কের শাকের কথা ভোলে না যেন তোর মাথা।
আরে মা মাঠে যা টুকিয়ে নিয়ে আয় তোর শাক,
আমি নাহয় কপি ,মুলো ,শিম আনব রাঁধবি তুই ,
তোর ইচ্ছাটাই নাহয় থাক ।
মাছের মাথা আনিস কেনে রাধব বাঁধাকপি,
অল্প খাব তবুও তো মন ভরবে তুই দৌড়ে মা টেপি।
আর একটা কথা শোন্ কিছু মরশুমি ফুলের চারা আনিস তো,
মাটি কুপায়ে গাঁদার চারা বাগানটাতে পুতব।
হ্যাঁরে মা এতো ইচ্ছা তোর টাকা পাবি কোথায়?
গাছ লাগিয়েছি চল্ তবে দুজনেতে ঝাঁকায়।
তুই না জমিতে জন খাটিস টাকা পাস না বুঝি ?
কিপটে এতো হয়েছিস যে না দিলেই ভাবিস আমি বাঁচি।
এ কটা টাকা দিয়ে জীবন চলে না রে মা,
দেখ বেটা পেটের ব্যাপারে এমন করিস না।
পেটে খেলে পিঠে সয় এটা তো জানিস,
এই মরশুমে গরীবরা পেট পুরে খায় মায়ের কথাটা মানিস।
উফ বাবা এই বয়সেও চাহিদা কতো তোর,
ও বৌ টাকা নে যা দেবে তোর বর।
শীতের মরশুমে খেজুর গুড়ের পায়েস রাধব দেখিস,
গন্ধে বাড়ি ম ম করবে নোলাটা সামলে রাখিস।
পিঠে পুলি করতাম কতো খেতাম মন পুরে,
যাবার তো সময় হয়ে গেছে খেতে দে বেটা মন ভরে।
খা রে মা যত খুশি ঘাট হয়েছে আমার,
তোকে আমি খাওয়াবো দেখিস মরশুমের যা যা আছে খাবার।
আর ফুলের গাছ লাগাবো না আমার সাধের বাগানে?
সেটাই বা কেন অপুর্ন থাকে দুঃখ রাখিস না মনে।।