মার্গে অনন্য সম্মান মিতা দাস বিশ্বাস (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার

পাক্ষিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ২৬
বিষয় – বড়দিন

রামুর বড়োদিন

রুমা দুদিন ধরে টিভি দেখে শিখে কেক বানানোর জিনিস কিনে এনে কেক বানাচ্ছে।ওর ছবছরের বাচ্চাটা চৌকিতে বসে মায়ের কাজ দেখছে আর বলছে ,মা লক্ষ্মীর ঘটটা ভেঙে এটা কি কিনে আনলি? রুমা বলল,এটা কেক বানানোর উনান ।ঐ বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে দেখেছিলাম।বৌদিরে জিগাতে ও বলে দিছে।ঐ ঘট ভেঙে এটা কিনলাম।দেখছিস না কদিন ধরে কেক বানাচ্ছি।বেচব বাপ।ভালো লাভ হয় ।এখন খীষ্টানদের উৎসব সবাই পালন করে ।কেক খাই বড়োদিনে।খাক ওরা । আমি বেচবো।
মা আমারে বড়োদিনে কেক দিবি নে।কুনোদিন তো খাই নাই।ঐ দুকানে কেক বলে মিষ্টি পাওরুটি দেয় পাঁচটাকায়।তুই কতো কিছু দিচ্ছিস দেখতে পাচ্ছি। রুমা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে তোরে দিলে বেচবো কি?লাভ হলি একটা লেপ আর তোর শীতের পোশাক কিনব। মারে এক টুকরো দিস না,কি সোন্দর বাস আসছে মা।কত্তোগুলান তো বানাইছিস ।কাল বেচবো ।কতো গুলান অডার পেয়েচি বাপ ,নোলা করিস না।গরীবদের নোলা করতি নাই।রামু চুপ করে গেল।
পরদিন রুমা কয়েকটা কেক বিক্রি করলো ওর কাজের বাড়িতে যেখানে ও রান্না করে। বাকিগুলো নিয়ে বসলো গিয়ে ধর্মতলায়। সুন্দর করে রাঙতা দিয়ে কেকগুলো সাজিয়েছিল।সব কেক বিক্রি হয়ে গেল।ছেলেটাও সকাল থেকে মায়ের সাথে এসেছে।ও দেখছে সবাই কেক নিয়ে চলে যাচ্ছে।সারাদিন প্রায় খাওয়াও হয় নি মা বেটার।রামু খিদেতে কাতর হয়ে বললো,মা সব বেচিস না একটা রাখ ।খিদে আর সইতে পারছি না। রুমা বললো ,একটাই আছে বাপ ।ঠিক আছে চল কেনে।সেইসময় এক মহিলা এসে দাঁড়ায়।বলে, কেকটা নেব । রুমা করুন চোখে ছেলের দিকে তাকায়। ছেলে কেকটা মহিলার হাতে তুলে দেয়। ধর্মতলা সেজে উঠেছে বড়ো দিনের আনন্দে।অনেক মানুষের ঢল নামছে।তার মাঝে দুই অভুক্ত ,ক্লান্ত পথ চলছে। বাড়ি গিয়ে দেখবে ওদের ইচ্ছে পুরণ হয় কিনা।
ওদের পথে হঠাৎ একটা গাড়ি এসে দাঁড়ায়।রামু ভয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে । দেখে গাড়ি থেকে নামছে অদ্ভুত দেখতে একটা মানুষ। লাল টুপি, লাল জামা পড়া ,জুতোটাও লাল । মানুষটি এসে রামুর সামনে দাঁড়ায়।বলে বলো তো আমি কে? রামু অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। মানুষটি বলে আমি শান্তাক্লজ । বড়ো দিনে সব ছোটো বাচ্চাদের উপহার দি। রামু বলে কেক দেবে? শান্তা বড়ো একটা প্যাকেট এগিয়ে দেয়। বলে খেও মন ভরে। আর একটা প্যাকেট দেয়। বলে সোয়েটার আছে পড়ো । এই শীতে গায়ে কিছু দাও নি? এক্ষুনি সোয়েটারটা পড়ো । দাঁড়াও জুতো দিচ্ছি ।রামুর ক্লান্তি মুছে দুচোখ খুশিতে ভরে গেল । ও সোয়েটার আর জুতো পায়ে হাতে কেকের প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরলো।
মা ,বেটা বাড়ি ফিরে কেক খেয়ে বললো জানিস বেটা এই বড়ো দিনের সান্তা ঠাকুর খুব ভালো ।কি সুন্দর তোর মনের ইচ্ছে পূরণ করে দিল । দাঁড়া বেটা ভাতে ভাত করি । আজ ওটাই খাব । ভালো লাভ হয়েছে, কাল লেপ বানাতে দেব। রামু বললো, মারে তোর একটা চাদর কিনিস । আমাকে তো শান্তা ঠাকুর দিয়াই দিছে। রুমা হাসলো । দুজনে একসাথে বললো, জয় বড়োদিন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।