কিছু পুরোনো স্মৃতি ভোলা যায় না চিরদিন রয়ে যায় গল্পের মতো করে।।এক প্রাচীন ঐতিহাসিক গ্রামের মাঝে চারিদিক গাছপালায় ঘেরা কয়েক বিঘার উপর তৈরি এই ইনস্টিটিউটটি।।কথিত আছে এই গ্রামে পরিব্রাজক চৈতন্য দেব যাওয়ার পথে বিশ্রাম নিয়েছিলেন।।কিছুটা দূরে বিশাল ঝিলের উপর একটা সেতু ছিলো,প্রত্যেক গোধূলি বেলায় সূর্যাস্ত হতো ঝিলের জলে অপূর্ব এক মায়া মাখা সন্ধ্যা নেমে আসতো গ্রামে,হোস্টেলের ছাদে বসে জ্যোৎস্না নেমে আসা গ্রাম বড়ো,বড়ো নষ্টালজিক লাগতো।।আধুনিকরণের সভ্যতা সেসব অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কেড়ে নিয়েছে,কেড়ে নিয়েছে সেই গ্রাম্য সরলতা নিবিড় সবুজ প্রাণ।।ছোট ছোট পাঠশালা,ছোট ছোট সারল্য মাখা কচি কিশলয় কতো অকৃত্রিম ভালোবাসা জড়িয়ে, ছড়িয়ে ছিলো চারিদিকে।। বিকেল হলেই ঘুরে বেড়াতো পরিযায়ী মন খুঁজে নিতো আনন্দ স্বতঃস্ফূর্ততা,অনেক বলা না বলা মজা লুকিয়ে আছে এই গল্পের ভিতর।।সেই গ্রাম,সেই হোস্টেল, সেই আবাসিক জীবন,সেই স্যারেরা,সেই ছোট ছোট ছাত্ররা,পরিচিত মানুষজন,আড্ডা সব আজ অতীত একটা জীবনের অধ্যায় যা আর ফিরে পাওয়া যাবে না।।খুব ইচ্ছে হয় আর একবার পরিযায়ীর মতো ডানা মেলে সেই ঝিলের জলের সৌন্দর্য গায়ে মেখে স্মৃতির হাসনাহানু ফোটাতে কিন্তু ভয় হয় যদি মনে হয় হাসনাহানুর গন্ধ নিতে গিয়ে সভ্যতার দুর্গন্ধে স্বপ্নের স্মৃতির পচাগলা দেহবাশেষ দেখতে না হয়,তার চেয়ে থাক সেই পরিযায়ী পাখির মতো যে আর ফিরে আসে না।।