T3 || প্রভাত ফেরি || বিশেষ সংখ্যায় মিঠুন চক্রবর্তী

প্রভাত আলোয়
কী ভীষণ হাড় কাঁপানো শীতের সময় ! তার উপর ঘন কুয়াশা! এই সময় তো কেউ হাত ছেড়ে কয়েক হাত দূরে গেলেই , তাঁকে আর দেখতে পাওয়া যায় না।অথচ, এই অবিশ্বাসী আর আত্মকেন্দ্রিক সময়েও না জানি কত দূর থেকেও আপনাকে দেখছি, ওই তো ঠিক আমার মাথার উপরটিতে নক্ষত্রের আলোর মত জ্বল জ্বল করছেন। দেখতে দেখতে ছেলেবেলায় পড়া সেই কথা মনে পড়ছে, আমরা যে নক্ষত্রটিকে দেখছি, হয়তো আজ তার শারিরিক কোনো অস্তিত্বই নেই, তবুও তাকে দেখছি, তার আলো এসে পড়ছে আমাদের পৃথিবীতে।
নাহ্ আপনি নক্ষত্র নন। আপনি আমাদের মত তরুণদের, যারা লেখার দুঃসাহস করে লিখতে এসেছিলাম তাঁদের লেখার ভাঙা-চোরা কাঁচা মাটির ঘরে প্রভাত আলো। আপনার উষ্ণতায় আমরা বীজ থেকে মাথা তোলার সাহস পেয়েছি।আপনার সংগে আমার প্রথম কথা হয় ম্যাসেঞ্জারে। ২০১৮ সালের ১০ ই জুলাই। আপনার ‘কবিতা পাক্ষিক’ এ কিছু কবিতা পাঠিয়েছিলাম। তারপর বেশ কিছুদিন পর ওই দিন সন্ধেতে আমাকে অবাক করে আপনি ম্যাসেজ করলেন ‘ভালো থেকো ।কবিতার সঙ্গে থেকো ।তোমার কবিতা সাপ্তাহিক কবিতা পাক্ষিক 112 -তে প্রকাশিত হয়েছে ।খুব ভালো লেখো তুমি।’ এত আন্তরিক ভাবে কেউ কখনো বলেনি তো আমাকে! আমি কী বলবো বুঝে উঠতেই পারছিলাম না। ওপারে যিনি ম্যাসেজ করছেন তিনি স্বয়ং প্রভাত চৌধুরী ! এটা ভাবতেই আমার ভেতরে কেমন যেন একটা অনুভূতি। তারপর একটু স্বাভাবিক হয়ে শ্রদ্ধা জানালাম আপনাকে।আপনি জিজ্ঞেস করলেন ‘ কোথায় থাকো ? ‘ আমি বললাম ‘ বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের কাছে’।ব্যাস তারপর কথার পর কথা। জানলাম আপনারও আদি বাড়ি বাঁকুড়ায়। সামনের পুজোতে আসবেন জানালেন। দেখা করার কথা বললেন। বলে দিলেন রাস্তা, ‘তোমার নিশ্চয়ই বাইক আছে । বিষ্ণুপুর > সোনামুখী > বাসুদেবপুর ( সোনামুখী – দুর্গাপুর রাস্তা )।’
হ্যাঁ, আপনি এভাবেই তো আমাদের মত তরুণদের রাস্তা দেখান। সেদিনের পর থেকে যেন আমি আপনার দেখানো রাস্তায় ছুটছি। আপনি সেদিন এত সহজে আমার মনের ভেতরে এমন একটা জায়গা করে নিলেন যেটা কোনোদিন শূন্য হবে না, সে আপনি যত দূরেই চলে যান না কেন।আর বাংলা কবিতার জগতে আপনার স্থান কতটা থাকবে তা বিচার করার মত ক্ষমতা এবং ধৃষ্টতা কোনোটাই আমার নেই। আপনি আমাদের অভিভাবক, আপনার দেখানো পথ আমাদের ভবিষ্যৎ হয়ে থাকবে।আমাদের মত তরুণেরা যখন শ্রদ্ধায় আপনার পায়ে মাথা নত করতে গিয়েছে, আপনি দু’হাত দিয়ে তুলে বলেছেন, ‘ রবি ঠাকুর ছাড়া আর কারো পায়ে মাথা নত করো না ‘। আজ সেই সব তরুণদের বুকের ভেতরে ওই তো আপনি বসে বসে গান গাইছেন, ‘ কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি…. ‘