কবিতায় মানস চক্রবর্ত্তী

মৃত্যু উপত্যকায় একদিন

আমি একটি মৃত্যু উপত্যকা পার হয়ে এসেছি
শয়ে শয়ে লাস এসেছি পায়ে মাড়িয়ে
রক্তের দাগ এখনও তাতে লেগে
গঙ্গা জলে শুদ্ধ করিনি নিজেকে  |
একটি ল্যাংটো কিশোর
তার বাবার লাসের পাশে বসে কাঁদছিল ,
আমি মুছিয়ে দিইনি তার চোখের জল
কান্না মানুষকে নির্মল করে |
যে কাঁদতে জানে না
হাজারো পাঠক্রম তাকে
ক্লেদ , গ্লানি , অবজ্ঞা থেকে বাঁচাতে পারে না |
মৃত্যু উপত্যকায় আমি দেখেছিলাম
বিশ্বসুন্দরীর দুটি স্তন , যা
কেউ খুবলে খেয়ে খেয়ে গেছে |
কে সে ?
কোনো ইঁদুর ? প্যাঁচা ? অথবা
কালো চুলের কোনো মাথা ?
যে অনেক দিন বুভুক্ষু ছিল |
আমি দেখেছি
এক উন্মাদিনী পাগলী মৃত পুরুষের ঠোঁট
চুম্বন দিয়ে ছুঁয়ে দিচ্ছিল ,
সে কি চিনে নিতে চাইছিল
এক কালে কে তার প্রেমিক ছিল ?
আমি এককালে এক যুবককে চিনতাম
তাকেও দেখেছি ঐ মৃতদের ভিড়ে ,
কী অসম্ভব পাংশু বর্ণের ছিল তার মুখ |
অহনাকে সে পায়নি
এই কি তার একমাত্র দুঃখ ?
প্রেয়সীকে না পেলে প্রণয় এত বিবর্ণ হয় ?
মৃত্যু উপত্যকায় আমি আর এক যুবককে দেখেছি
থ্যাতলানো পুরুষাঙ্গ নিয়ে শুয়ে থাকতে ,
পুরো দেহ তার বুলেটে ক্ষতবিক্ষত
অপরাধ তার একটিই
মাতৃভূমির মুক্তি চেয়ে সে লিখেছিল একটি কবিতা |
যুবতীর পাশে শুয়েছিল এক বৃদ্ধাও
বুকের মাই ঝুলে পড়েছে , চামড়াও অমসৃণ
মৃত্যুতে তার এমন কিছু ক্ষতি ছিল না
কিন্তু একটি নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি
সে উপহার দিয়ে গেল তার পরবর্তী প্রজন্মকে |
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।