বালার্কের স্নিগ্ধ, উজ্জ্বল আলোর কিছু প্রাপ্য কিরণ,
আমার ভাগ্যাকাশেও লিখতে পারতো স্বপ্ন মিলন।
তবু পরিহাস ছলে, সন্ধ্যা পূর্বের গোধূলি বেলায় এল আলো,
দিনের শেষ প্রহরে মন সেই আলোয় উদ্ভাসিত হলো।
দিনের প্রথম প্রহরে যে স্বপ্ন সাজানো ছিলো আমার জন্য,
সন্ধ্যা লগ্নে যখন বিতরণের ডাক পড়লো, পেলাম শুধু শূন্য।
রিক্ত ডালি নিয়ে, হৃদয়হীন বিধাতার সব অসময়ের দান,
প্রচার করলো আমার নিরালম্ব অস্তিত্ব, বাকী রইল আমার অভিমান।
সন্ধ্যাকাশে অকপট চাঁদের আলো,
ছড়িয়ে পড়লো চরাচরে,
শুধু মিটলো না আমার ঘরের কালো ,
আক্ষেপ এলো অন্তরে।
আমার দীর্ঘ সংগ্রাম ক্লান্ত আর্তরব,
স্বজনেরা নাম দিল প্রবঞ্চনা,
যখন জানালাম শান্তি চুক্তির আবেদন,
পেলাম অনুক্ত করুণা।
শেষ সম্বল দিয়ে ঋণমুক্ত হয়ে পথে নামলাম, হলাম দেউলিয়া,
আমার বিশ্বাস হলো নামহীন, আর নিষ্ঠাধর্ম হলো ‘সহজিয়া ‘।
গৃহহীন, নামহীন আমি যাত্রী হলাম নিরুদ্দেশের, হলাম পথিক ।
প্রকৃতির সন্তান আমি, তাই বিধাতা আজ আমি তোমার রসের রসিক।
বঞ্চনা করলে, ছলনা করলে, সব কেড়ে নিয়ে, পথের গ্রন্থি বাঁধলে,
নতুন স্বপ্ন সাজানোর, আত্ম বিশ্বাসের উন্মাদনা ভাঙতে কি পারলে?
তুমি জানো _ আবার গড়বো তিলে – তিলে এই ধূলিময় ধরিত্রীর প্রান্তে ,
সর্বহারা, নিঃস্ব আমি, তবু ফিরবো না তোমার দ্বারে, শূন্য হাতে।