|| কালির আঁচড় পাতা ভরে কালী মেয়ে এলো ঘরে || T3 বিশেষ সংখ্যায় মঞ্জিলা চক্রবর্তী

মাতৃরূপেণ
- “ও-ই যে…কেমন ছিরি দেখ মেয়েমানুষের। রাতদুপুরে বাড়ি ফেরে, আবার থ্যাটার করে।যাকে বলে এক্কেবারে…”
শ্রী সিগারেটের কাউন্টার পার্টাটাতে লম্বা একটা সুখটান দেয়। পোড়া অংশটাকে জুতো দিয়ে পিষে দেয়, ওড়ে আসা বিদ্রুপগুলোকেও।
- “ওমা দেখবে এসো… জলদি, আমাদের শ্রীদিকে দেখাচ্ছে টিভিতে!”
- “কী অপকান্ড ঘটিয়েছে যে…”
- “আরে দেখোই না…।”
ব্রেকিং নিউজে বার বার ভেসে উঠছে খবরটা, “করোনাকালে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে,আপন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করোনাক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য-পথ্যের যোগান দিয়ে অসংখ্য প্রাণকে রক্ষা করেছে – শ্রীজয়ী!”
সঙ্গে তার একখান পাসপোর্ট সাইজের ববকাট চুলসহ শ্যামলা বরণ স্মিত হাস্য মুখের ছবি। বার বার ঘুরে ফিরে স্ক্রিনে ফুটে উঠছে মুখটা।
প্রাণ ফিরে পাওয়া অসহায় মানুষগুলো তখন তাদের জীবন দাত্রী একবগগা মেয়েটাকে দেখে দূর থেকে দু’হাত তুলে প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করে, ” বেঁচে থাক মা…!”