মুক্ত গদ্যে মঞ্জীর বাগ

জন্মাষ্টমী
হাসতে গেলে আমার কষ্ট হয় খুব।হাসি আমার আড়াল, মুখোশের মতো।।আমি ভোরে উঠে পরে নিই মুখোশ। আমার অনেক গুলো মুখোশ আছে সুখের, ভালো থাকার হয়তো সাফল্যের। আমার সবমুখোশ। মুখোশ পরতে পরতে আমার সত্যি কারের মুখটা ঘেমে ওঠে।কিন্তু সামাজিকতার আলোয় আমার মুখোশ খোলার যো নেই।
দেবকীর মত আমারও গর্ভাবস্থা এক অসম্ভব আতঙ্ক।আমার সর্বদা ভয় হয়েছে কংস এসে আমার সদ্যজাত প্রাণ হত্যা করবে? আমি বারবার ব্যর্থতার আঘাতে ভেঙ্গে পড়বার আগেই সাফল্যের সন্ধানে গান গেয়েছি।আমি এ কথা জেনেছি সাফল্য মানে ব্যর্থতার উপর বিজয়।
যদি নিজেকে মাটি ভাবি তবে আমার ভেতরে যে জন্ম গান আছে সেই এক অনন্ত বীজ।
অনন্ত বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আমি অমৃত ময় অমৃতা ।
সত্য ত্রেতা দ্বাপর কলিযে যুগে ই জন্মাই না কেন তোমাকে ধ্বংসের আগুনের মুখোমুখি হতে হয়। ধ্বংসের আগুনের মুখোমুখি হয়ে জীবনের জয়গান গাই। মনে আছে আমি একজন মেয়ের গান ছিলাম।সেদিন রাতে চাঁদ নেমে এসেছিল আমার কাছে।
বহুদিন না ঘুমানো আমি এক চন্দ্র কে আশ্রয় করে তার আলোকে নিজের ভেতরে গ্রহণ করি।চাঁদের আলোইআমার বড় আশ্র য়।
আশ্রয় গান গাই বলে আমি এক সমুদ্র কন্যা।
জল তোমার প্রতি আকর্ষণে ই আমি বারবার বেঁচে যাবই
সেদিনও এক শ্রাবণ রাতে চাঁদ যেন বৃষ্টি হয়েঝরে পড়ছিল। ঝরে পড়ছিল আমার ছাদে।আমি আর চন্দ্রপুরষ চাঁদের গানে মেতে উঠেছিলাম জীবনের খেলায়। আমি যদি মৃত্তিকা। মেয়ে জন্ম বিক্ষোভঝড়ে হৃদয়ে জেগে উঠেছিল সে তো অনন্ত পারিজাত।
একটি পারিজাতের সম্ভাবনা গান গাইবার সময় আমার শ্রাবণের সেই কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কথা মনে হয়েছিল। যেদিন মথুরায় জন্ম দেবকী দিয়েছিলেন তার অষ্টম গর্ভের অনন্ত সাধককে। সেদিন বৃষ্টি ছিল চারদিকে অন্ধকার কেবল অনন্ত পথ বেয়ে চলে যাচ্ছিলেন বসুদেব।আমার তো সেই ছাতা ধরার মতো অনন্তনাগ ছিলনা।
আমার শরীর জুড়ে বৃষ্টি। বৃষ্টি আর বৃষ্টির গান আমার মনে পড়ে সেই শ্রাবণ রাতের কথা।আমার শরীর থেকে জন্ম নেবে এক পারিজাত গান। বড় কষ্টে আমি অপেক্ষা করছি সেই আনন্দ মুহূর্তের। সামাজিকতার ক্রোধ আমাকে কোন ভাবে দেখছে?
সেদিন তুমি কোথায় ছিলে মাধব? তোমাকেই ত আরাধ্য জেনে যে ফুল আমি দিয়েছিলাম তোমার পায়ে,সেই ফুলের গানে তুমি তো ছিলে না ;তুমি তো ছিলে না…..
তবু আমি জন্ম দিয়েছি এক জীবন গানের। যে গান আশ্রয় করে আমি তোমার চরণাশ্রিত।
হে মাধব, তুমি সৃষ্টির নিরাময়.,..
তুমি সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম অতি সূক্ষ্ম প্রতিটি কণা যাকে তন্মাত্র বলতে পারি তার মধ্যেই অবস্থান করো।
আমার একাকী জীবন যাপন পথে আমি তোমাকেই আশ্রয় করেছি হে মাধব হে বন্ধু হে প্রিয়তম……
আমি জানি এই শ্রাবণের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী অন্ধকার এবং অন্ধকার অতিক্রম করে যে আলোর সন্ধান পাবো সেই আলোতেই তুমি অবস্থান করো
হে আরাধ্য আমি শুধু সেই কামনা করি এই আলো কামনা করে যে যাত্রাপথে
সেই তো আমার জন্মাষ্টমী।আমি জানি বৃন্দাবনে তুমি গান গাও শ্রী রাধার সাথে।তোমার বাঁশির সুর জানে আমি সেই সুরে রাধা হতে চাই।
তোমার সুর আমি শুনেছিলাম এক দুরন্ত নদের গানে।
আমার ঘর পুড়ে গেল আমার শরীর পুড়ে গেল কেবলমাত্র মনে আমার অবস্থান হে মাধব
তোমার বাঁশির সুরে আমার বড়ই ভালো লাগে
আমি এই সুরে অবলম্বন করেএক বাতাসের জীবন পেতে চাই.,.
আমি হাঁটছি। হাঁটছি। আমার স্তনভার অমৃত সুধা ভরে উঠেছে।আমার দুহাতে আগলে রেখেছি সদ্য জন্মানো পারিজাত
বৃষ্টি হচ্ছে শ্রাবণ ধারায়।
এই জন্মাষ্টমীর অন্ধকারে আমি যে দীর্ঘ পথ চেয়ে আমার দীর্ঘ জীবন
এই আলোতে এই অন্ধকারে তুমি অবস্থান করো
তুমি অবস্থান করো আমার হৃদয় মধ্যে
আমি শুধু তোমাকে অন্ধকারের মধ্যে আলো বলে জানি
[02/09, 5:56 am] Manjir Bag: প্রিয় সই,