কাব্যানুশীলনে মধুমিতা আদক

আগামীর তরে নিশানা
জলন্ত মোমদান থেকে, ক্রমে ক্রমে ঝড়ে ঝড়ে ;
গলন্ত মোম টপ্ টপ্, করে গড়িয়ে যায় পরে।
প্রতি ফোঁটার সাথে সাথেই, আর বারে বারে,
যেন এক একটা যুগের, অন্ত ঘটে নিঃসাড়ে!
কত নত উন্নত চরিত্রের উত্থান, কত পতন;
আপাত পূর্ণতার সহাস্যতা, রিক্ততার ক্রন্দন!
শিখায় আটকানো চোখ, আশায় বন্ধ করি;
পার হয়ে যাক, আরেক যুগের অন্তকারী তরী।
বৃষ্টিস্নাত গাছের, পত্র কিনারায় হয়ে বেয়ে বেয়ে,
টুপ্ টাপ্ জলের ফোঁটারা, ক্রমান্বয়ে পড়ে গড়িয়ে।
প্রতি ফোঁটায়, অনন্ত জলরাশি পার করে যায়;
র্নিলিপ্ত চোখ জলে ভরে, আবেশে বন্ধ হতে চাই।
তকিয়ে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা, বন্ধ চোখে অনুভবে পাই-
সাত সমুদ্র তেরো নদী, পার হয়ে এগিয়ে যাই;
তবুও অনন্ত জলরাজি, নিরন্তরতার বিস্তারময়!
ঠিক যেমন জীবনধারা, আপন পথ আপনি খুঁজে নেয়!
চিৎকার করে বলে উঠতে ইচ্ছা করে, চমৎকার!
অন্তহীন এই ব্রহ্মান্ড, অশেষ তার অক্লান্ত বিস্তার।
পরক্ষণেই প্রাণে, কবির বাণীর প্রতিধ্বনি ওঠে জেগে-
“জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে”!
ভারাক্রান্ত মন ঝেড়ে, প্রাণপাত কবিতা কথা রচনা;
লিখে চলি নিরন্তর, আশা নিরাশার ভাব ভাবান্তর!
কথা অকথার জাল বুনে, জাগরণে মানব চেতনা;
মরনের পারে আগামীর তরে, সে হোক আমার নিশানা!!