ধলেশ্বরীর অন্য ধারায় ভ্রমণ কাহিনী তে লোকমান হোসেন পলা

মুক্তিযুদ্ধে ত্রিপুরা

বিপদের দিনের সেই বন্ধুত্বই আজ ইতিহাস

প্রিয় কবিতা,
প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। গত ৫ দিন ধরে কবি দ্বীলিপ দাস এর সহযোগিতায় আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে আগরতলা তথা ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলো গুড়ে দেখলাম। বিশেষ করে তিনি আমাকে আগরতলা প্রেস ক্লাব থেকে প্রকাশিত স্মরণিকা এবং আগরতলা থেকে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা, ওনার সংগ্রহিত তথ্য উপাথ্য থেকে আমাকে বেশকিছু তথ্য প্রদান করেন। এ নিয়েই তোমাকে লেখা। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ত্রিপুরার অবদান অবিস্মরণীয়।
ভারতীয় সীমান্ত রাজধানীগুলোর মধ্যে একমাত্র আগরতলাই বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন। আর এই ভৌগোলিক যোগসূত্রের কারণে আগরতলা বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে মুখ্য বন্ধুর ভূমিকা রাখে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার। সরকার গঠনের পর থেকেই মুক্তি সংগ্রামের কাঠামোগত বিন্যাস তৈরি হয়ে যায় এবং বিভিন্ন শরণার্থী শিবির, ইয়ুথ ক্যাম্প এমএনএ ও এমপিদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়। বাঁধ ভাঙা পাবনের মতো দেশত্যাগী মানুষ তখন ত্রিপুরার বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রবেশ
করছে তখন একদিকে শরণার্থী পুনর্বাসনের কাজ অন্যদিকে অস্ত্র-গোলাবারুদ সংগ্রহ আর ট্রেনিং দিয়ে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে মুক্তিকামী হাজার হাজার তরুণ-যুবকের সমন্বয়ে মুক্তিফৌজ গড়ে তোলার কাজ। মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে ভারতের সেই সময়কার প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের চিরস্মরণীয়। শরণার্থীদের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার এসেছিলেন আগরতলায়। নয়াদিলী থেকেই আমি সব খবর পাচ্ছি। আমি এসেছি এই অসহায় ও অত্যাচারিত মানুষদের সহানুভূতি জানাতে।
১৬ জুলাই ত্রিপুরার উপমন্ত্রী মনসুর আলী বিভিন্ন শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন। জুলাই মাসের ভেতরে সারা ভারতে ৫৭ লক্ষ ৬৩ হাজার শরণার্থী ঢুকে পড়ে। ত্রিপুরায় আগত শরণার্থীদের সমস্যা ও তার প্রতিকারের ব্যবস্থা ছিল নিম্নরূপ : স্থায়ী লোকসংখ্যা : ১৫৫৯০০০ জন। আগত শরণার্থী : ১২২১০৭৫ জন। শিবির সংখ্যা : ৩৬টি। ইউনিট : ৩৮২টি। শিবিরবজাসী : ৬৯২১৫৫ জন। ব্যক্তিগত ব্যবস্থা : ১৫০০০০ জন। আত্মীয়ের সঙ্গে : ৩৮৯৬০০ জন। রাজ্যের বাইরে প্রেরিত : ২৫৪৪০ জন। সংরক্ষিত ব্যবস্থা : ৭৫০০০ জন। এ পর্যন্ত ব্যয় : ৭২০০০০০০ জন। সম্ভাব্য ব্যয় : ৪৫ কোটি টাকা। চিকিৎসা : ৩৫০ জন ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মী। শরণার্থীদের এই রকম জোয়ারের মুখে ত্রিপুরার খাদ্যদ্রব্য আর ভোগ্যপণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়। ডিমের হালি তিন টাকা থেকে ১২ টাকা হয়ে যায়। শুধু আগতলা নয় মহানগরী কলকাতাও এই সময় বিপর্যস্ত হয়েছিল বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যার ভারে। আগস্ট মাস নাগাদ পশ্চিম বাংলায় বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী ঢুকেছিল ৫২ লক্ষ ৭২ হাজারের বেশি। আগস্ট মাস থেকে যুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত রাতের বেলায় কার্ফু জারি থাকতো আগতলায়। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা এলে ইন্দিরা গান্ধীর কথা তোলা কেবল স্বাভাবিক নয়, অত্যাবশ্যকীয়ও। ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী এক জনসমাবেশে পরিষ্কার ভাষায় বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) শরণার্থীরা যারা এখানে এসেছে তারা এখানে নিমন্ত্রণ খেতে আসেনি। তারা আক্রান্ত, বিপন্ন। বিশ্বের কোনো বৃহৎ রাষ্ট্রই আজ পর্যন্ত এতো বিরাট সংখ্যক শরণার্থীর দায় নেয়নি। ভারতেও সে
চলবে
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।