T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় লিটন দাস

ওরা আজও বেঁচে আছে
আবার কাঁদল অবলা কিশোরী এ সবুজ বাংলা’তে
ভগবান যেন অসহায় আজি দানবের কষাঘাতে।
লালসা লাভায় পুড়ছে যে আজও নিরূপায় বেহুলারা,
শ্লীল ভূষণের আড়ালে রয়েছে অশ্লীল পায়তাড়া।
সীমার, কংস অসুর রাবন তারকা দুর্যোধন।
পুনর্জন্ম হয়েছে ওদের হয়নি উন্নমন।
লাঞ্ছিত আজ আবরূ বাঁচাতে সাবিত্রী অসহায়,
এসো যমরাজ, বাঁচাও সতীকে সতীত্ব ভেসে যায়।
দ্রৌপদীরা যে আজও লাঞ্ছিত সুশীল সমাজ মাঝে
চোখ বেঁধে রাখে ভন্ড রাজন দেশবাসী মরে লাজে
পান্ডবরূপী যুবক সমাজ আজও ভীরু কাপুরুষ,
মদ্য জুয়ার নিদ্রা রসেতে নেই মানবিক হুস।
লম্পটদের ঘাঁটি তে হচ্ছে লজ্জা হরন আজ,
সব দেখেশুনে চোখ বেঁধে রাখে ভন্ড এই সমাজ।
চারিদিকে সব বৃহন্নলারা হাসছে অট্টহাসি,
এ নপুংসক সমাজপতিকে দিতে হবে আজ ফাঁসি।
এরাই আবার নারীবাদী রূপে মিছিলের রাজপথে,
আছেন যে বসে জননেতা হয়ে রত্নকমল রথে।
এসো হে কেশব, আসছে যে ধেয়ে নিঠুর দুর্যোধন,
বস্ত্র হরনে আসছে সতীর কুচক্রী দুঃশাসন।
হে জনার্দন চালাও আবার তোমার সুদর্শন,
ধ্বংস কর’গো এই সমাজের ভন্ড অসজ্জন।
হে সুদর্শন, হানো গো আঘাত বাঁচাও গো দ্রৌপদী,
আসুক দেশেতে নারী স্বাধীনতা মুক্ত ছন্দ গতি।
কিন্তু এদেশে আজও যে নারীরা হচ্ছে বারবনিতা,
লালসা মিটাতে পুরুষ তাদের বানাচ্ছে যে পতিতা।
দোয়েল টিয়ার কলতান আজ নীরব হয়েছে হায়!
কাব্য ছন্দ সুরের রাগীনী রক্তে যে ভেসে যায়।
আকাশে বাতাসে বারুদের ঘ্রাণ বিষাক্ত করে কায়া
স্বাধীন ভারতে এসেছে আবার আঁধারের কালো ছায়া।
আজও শোনা যায় দিক দিগন্তে কান্না ধর্ষিতার,
আদিকাল থেকে কেন অবলারা নিপীড়িত বারবার?