মার্গে অনন্য সম্মান খুশী সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৩৩
বিষয় – পঁচিশে বৈশাখ
পঁচিশের অনুভূতি
বাঙালির প্রাণের আবেগ পঁচিশে বৈশাখ,
নব প্রাণের উন্মাদনায় যেন পল্লবিত শাখ।
নদীর পাড়ে শুভ্র কাশের ফুটন্ত রূপ দেখে,
মায়ের আগমনীর আনন্দ নিই মেখে।
নববর্ষে বৈশাখের এই পঁচিশ এলে উচ্ছ্বাস,
দিব্যজ্যোতি বিশ্বকবির জন্মদিনের উল্লাস।
মানবপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথ জন্মে শুভ দিনে,
মানবতার নতুন সুর তার বাজালেন হৃদ বীণে।
বহুমুখী প্রতিভার এক তেজোদীপ্ত রবি,
দিব্য জ্ঞানে ভাস্বর হল অন্তর্লোকের ছবি।
সাহিত্য আর শিক্ষা সমাজ দর্শন বিজ্ঞান সবে,
সুতীক্ষ্ণ তাঁর গভীর প্রজ্ঞায় বিশ্লেষিত ভবে।
গভীর জ্ঞানে তিনি যেন এক সুউচ্চ পর্বত,
তাঁর রোমান্টিক চোখে জীবন কারুকার্যময় রথ।
প্রকৃতি আর মানব ঈশ্বর ত্রিধারার স্রোতে,
সীমা থেকে অসীমে লীন অনাদিকাল হতে।
বিশ্ব প্রাণের চলমান এই অথৈ সাগর জলে,
অনুভূতির গাঢ় রসে অবগাহন পলে।
জীবনের এই নিগূঢ় সব জটিল সম্পর্ক জাল,
দূরদর্শী দৃষ্টিতে তাঁর বিশ্লেষণ নির্ভেজাল।
সৃষ্টিশীল তার মননধর্ম দার্শনিক ঋষি তুল্য,
বিকশিত সদ্ভাবে ওই মানুষই দেব তুল্য।
মানুষের ওই জয়গানে মুখর কাব্য সাহিত্য,
প্রবন্ধ নাটক গল্প উপন্যাস সৃষ্টিতত্ত্ব।
জন্ম-মৃত্যুর খেলা ঘরে সুদূরের পিয়াসী,
সুখ-দুঃখ বিরহ মিলন পূর্ণ জীবনে বিশ্বাসী।
জড় নয় প্রকৃতি তাঁর এক চলমান চেতনা,
উন্নতবোধ উন্নীত মন অভেদে কল্পনা।
পরশমনির পরশে ওই মুক্তো জ্বলা বিন্দু,
সারস্বত সাধনায় তিনি জ্ঞানের গভীর সিন্ধু।
নট-নাট্যকার চিত্রশিল্পী সংগীত সুর ও স্রষ্টা,
বিচিত্র ওই নারী মনস্তত্ত্বে দূর দ্রষ্টা।
বাঙালির ওই গানে গল্পে প্রতি দিন যাপনে,
চেতনা আর ভাবনা আবেগ সব মুহূর্তের মননে।
পঁচিশে তাই মিশে আছে রবীন্দ্র সুরের মূর্ছনা,
সুখে-দুখে ভালোয় মন্দে দীপ্ত প্রাণের প্রেরণা।
স্বপ্ন স্মরণ শ্রদ্ধায় পঁচিশ প্রাণের উদ্দীপনা,
বৈশাখ এলেই প্রাণে প্রাণে জাগে উন্মাদনা।
বৈশাখের এই পঁচিশ যে তাই বাঙালির মনজুড়ে,
শ্বাস-প্রশ্বাসে আসা-যাওয়া করে ঘুরে ঘুরে।