মার্গে অনন্য সম্মান খুশী সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৭৮
বিষয় – শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ
সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রতীক
অনাচারের কালো মেঘে ঢাকা আকাশ যখন
হঠাৎ তখন উঠলো ফুটে দীপ্ত এক রবি।
ধীরে ধীরে সেই মেঘ গেল উজল আলোয় ভেসে
উঠলো হেসে সহজ সুন্দর মহামানবের ছবি।
যেন আকাশ গাঙে ফাল্গুনী পূর্ণিমার পূর্ণশশী,
রুপোলি আলোয় তুমি স্বচ্ছ শুভ্র শ্রীরামকৃষ্ণ।
সর্বধর্ম সমন্বয়ের পথপ্রদর্শক মানবতার ধুলিশয্যায়
প্রেমের মূর্তি ত্রেতায় যেই রাম দ্বাপরের সেই কৃষ্ণ।
হুগলি জেলার কামারপুকুরে তোমার আবির্ভাব,
আঠার’শ তেত্রিশের আঠারই ফেব্রুয়ারি।
পিতা ক্ষুদিরাম, মাতা চন্দ্রমণির কোলে এলে
জ্যোতির্ময় আলোয় উদার মানবতার পূজারী।
কেতাবি বিদ্যায় অনাসক্ত তুমি পূর্বাশ্রমের গদাধর
স্বভাবে সুকন্ঠী অসাধারণ স্মৃতিশক্তিধারী।
যাত্রা গানে প্রবল আসক্তিতে অনাড়ম্বরী যাপন
পুরাণকাহিনীর অনুরাগ আসক্তি ভারি।
কলকাতায় জ্যেষ্ঠভ্রাতার সাথে পিতৃবিয়োগান্তে,
রানী রাসমনির দক্ষিণেশ্বরের কালীবাড়ির পূজারী।
ভবতারিণীর বিগ্রহে ব্যাকুল প্রাণে চিন্ময়ী অনুভবে
মাতৃজ্ঞানে করলে নিজস্ব পূজা প্রচলন তারি।
সন্ন্যাসী তোতাপুরীর দীক্ষায় অধ্যাত্মজ্ঞান লাভ,
ঘটালে ভারত আত্মার শাশ্বত বাণীর বিকাশ।
বাঙালির যোগসাধনায় দার্শনিকতায় ধর্মগুরু রূপে
করলে হিন্দু ধর্মের অন্তর্নিহিত সত্যের প্রকাশ।
সহজ সরল অকৃত্রিম হৃদয়স্পর্শী তোমার বাণী,
হলো সংকীর্ণতামুক্ত হিন্দুধর্মের নবজাগরণ।
সকল ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধায় এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী
ধর্মীয় চেতনা চিন্তায় তুমিই রাম কৃষ্ণের মিলন।
অদ্বৈত বেদান্তের সাধনায় নির্বিকল্প সমাধি লাভ
ইসলাম খ্রীস্টান সাধনায় প্রচার ‘যত মত তত পথ’।
সকল জীবে শিবজ্ঞানে সেবার উদার শিক্ষায়
আঞ্চলিক উপভাষার গল্পে চলল ধর্মীয় শিক্ষার রথ।
পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হলে চব্বিশ বছর বয়সে
পত্নী রূপে পেলে জয়রামবাটীর সারদামণিকে।
অষ্টাদশী যুবতী সারদাকে করলে মাতৃজ্ঞানে পূজা
প্রতিষ্ঠা দিলে ঈশ্বর প্রাপ্তির অভিনব মানবধর্মকে।
প্রথাগত শিক্ষিত না হয়েও দিয়েছো শিক্ষিতের সম্ভ্রম
পাশে সদা ভিড় দীপ্ত-আলোমুখী ভক্ত-পতঙ্গের দল।
ঈশ্বরের অবতার রূপে পরম ভক্তের পরমহংস তুমি
দুরারোগ্য ক্যান্সারে জীবন-দীপ পশ্চিমে অস্তাচল।