মার্গে অনন্য সম্মান খুশী সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৮৫
বিষয় – দাবদাহ
নব সৃষ্টির বীজ
চৈত্রের চিতা ভাষ্য উড়ে গেল এলো বৈশাখ,
পুঞ্জ পুঞ্জ কিশলয়ে পল্লবিত শাখ।
নতুন গানে নতুন ছন্দে চলে জীবন-তরী,
মধ্য গগন তীব্র দহন ভুরু কোঁচকায় সৌরী।
নবীনবরণ উতল উচ্ছাস উৎসব পালা শেষে,
তপ্ত রবির কিরণ ত্বরিৎ ধরায় পড়ল এসে।
প্রখর রোদের দাপে চারদিক হল ঝালাপালা,
দারুণ অগ্নিবাণে ধরার বক্ষ ফালা ফালা।
তির বেঁধা ওই পাখির মত ছটফটায় সব প্রাণী,
মানুষজন আর পশুপাখির নীরস জীবনখানি।
গ্রীষ্মের দারুন দাবদাহে বাতাসে নেই বারি,
নদী-নালা-খাল-বিলের প্রাণ যাচ্ছে দেহ ছাড়ি।
ধু ধু মরু যেন মাঠ ঘাট রাস্তা বাড়ি প্রান্তর,
খাঁ খাঁ রোদের তীব্র দাহে পোড়ে যেন অন্তর।
মাঠের বক্ষ চিরে ফুটিফাটা চৌদিক চৌচির,
জনমানবশূন্য পথের একাকিত্বের বিড়বিড়।
রবির রক্তচক্ষুর ভয়াল শাসন জগৎজুড়ে,
একচ্ছত্র ক্ষমতার রঙ তার সারা গা মুড়ে।
ক্লান্ত কোকিল কেবল ডেকে চলে ওই একটানা,
ভাঙা স্বরে থেকে থেকে কাঁপে যে প্রাণখানা।
উদাস হাওয়া দ্রুত বেগে বয়ে যায় আনমনে,
পুকুরের ওই নিথর জলে আলপনা দেয় ক্ষণে।
তপন তাপে ধরিত্রীর প্রাণ বাষ্পে উড়ে চলে,
শুষ্ক কন্ঠে গরু ছাগল ঠাঁই নেয় গাছের তলে।
একটু শীতল পরশ তরে মানুষ বন্দী ঘরে,
ঘেমে নেয়ে একসা হয়ে হাপড় টেনে মরে।
তৃষ্ণার্ত এই ধরায় ঝরে রবির কঠোর প্রতাপ,
রক্তচক্ষু নির্মম বড়ো কমে না যে তার দাপ।
তীব্র দাবদাহ অসহ্য বাড়ে গাত্র জ্বালা,
এক পশলা বৃষ্টির তরে শির নাড়ে ডালপালা।
নীরস নিষ্প্রাণ ধরায় প্রাণে বাঁচার আকুলতা,
ভীষণ ভয়াল এই দাবদাহে রহস্যের জাল পাতা।
চকিতে ওই ঈশান কোনে কালো মেঘের ঘটা,
তিলেক না যায় যেন দুলে ওঠে রুদ্রের জটা।
শোঁ শোঁ গোঁ গোঁ শব্দে ধেয়ে আসে প্রবল বায়ু,
ত্রস্ত মানুষ পশু পাখি ভাবে এই শেষ আয়ু।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমক বিকট বজ্রপাতে,
প্রবল বেগে ঝোড়ো হাওয়ায় প্রলয় ধরণীতে।
ধ্বস্ত ধরায় ধীরে নেমে আসে প্রবল বৃষ্টি,
রসদ পেয়ে নীরস ধরায় উঁকি মারে সৃষ্টি।