সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ৩৩)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা :

চতুর্দশ অধ্যায় : গুণত্রয় বিভাগ যোগ: অন্তিম পর্ব :

ভগবান অর্জুনকে বললেন সাত্তিক কর্মের ফল নির্মল, রাজসিক কর্মের ফল দুঃখ ও তামসিক কর্মের ফল অজ্ঞানতা। সত্তগুণ থেকে জ্ঞানের প্রকাশ, রজগুণ থেকে লোভ এবং তমগুণ থেকে মোহ ও প্রমোদ উৎপন্ন হয়। তিনি আরো বললেন যে সত্তগুণ সম্পন্ন মানুষ ঊর্ধলোকে বিচরণ করেন। রজগুণ সম্পন্ন মানুষ মধ্যে লোকে বিচরণ করেন এবং পরিশেষে তমগুণ সম্পন্ন মানুষ নরকে অবস্থান করেন ও চিরদুঃখের অধিকারী হন। জীব যখন দর্শন করে উপলব্ধি করেন যে পরমেশ্বর এই সকল গুণ বৃত্তান্তের অতীত, তখন তিনি ভগবানের পরা শক্তি লাভ করেন। এবং এই জীবকুল তাঁর সকল পার্থিব গ্লানি, যন্ত্রণা ও দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করে, অমৃতের অধিকারী হন।

পার্থ ভগবানকে প্রশ্ন করলেন যে যিনি এই সকল গুণের অতীত, তাঁকে কি রূপে চেনা যায়? তাঁর লক্ষণ কি কি? তাঁর আচরণ কি রূপ? ভগবান পার্থের সংশয় নিবৃত্ত করবার পবিত্র উদ্দেশ্যে বললেন যে ব্যক্তি সকল মায়া, মোহের ঊর্ধে, যিনি উদাসীন, যিনি এই গুণসমূহের দ্বারা বিচলিত হন না, যিনি বিশ্বাস করেন যে এই গুণ সমূহ আপন খেয়ালেই প্রকাশিত হন, যিনি শান্ত, ধৈর্যশীল, সকল বিষয় সম ভাবাপন্ন এবং সকল কমোর্দ্যম পরিত্যাগী – তিনিই সকল গুণের ঊর্ধে বলে বিবেচিত হন।
ভগবানের প্রতি অবিচল ভক্তিকে অবলম্বন করে যিনি তাঁর নিরন্তর সেবা করেন, তিনি প্রকৃতির সকল গুণকে অতিক্রম করে ব্রহ্মভূত স্তরে উন্নত হন।
ভগবান অকপটে স্বীকার করেন যে তিনি ব্রহ্মের একমাত্র আশ্রয়। অমৃতসম সুখ, চিরন্তন ধর্ম ও ঐকান্তিক সুখের তিনি একমাত্র আশ্রয়!!
সমাপ্ত
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।