সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ১৬)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

পঞ্চম অধ্যায়: কর্ম সন্ন্যাস যোগ : অন্তিম পর্ব: সামগ্রিক :

ভগবান বললেন অর্জুনকে যে জ্ঞানের প্রভাবে অজ্ঞানতা বিনষ্ট হয়। জ্ঞান সেই পরমতত্ত্ব অনুধাবন করতে সাহায্য করে। জ্ঞানের প্রকাশ সূর্যের সম যা এই বিশ্বব্রহ্মান্ডকে আলোকিত করে রেখেছে।
যিনি ভগবানের কাছে নিজেকে উৎসর্গ করেন।তাঁর চিন্তা সর্বক্ষণ করেন এবং নিষ্ঠার সহ আশ্রয় করেন, তাঁর সকল অজ্ঞানতা বিনষ্ট হয়। দূরীভূত হয় তাঁর সকল ক্লেশ, পীড়া। তিনি এখানেই জন্ম মৃত্যুকে জয় করেন। সকল পার্থিব গ্লানি থেকে মুক্ত হন। চিরসুখ প্রাপ্ত করেন।
তিনি আরো বললেন যে প্রকৃত জ্ঞানবান ব্যক্তি নির্বিচারে সকলের প্রতি সমভাব ব্যক্ত করেন। মানুষ ও পশুর মধ্যে কোন প্রকার বিভেদ নেই তাঁর কাছে।
হে পার্থ- যার মন সাম্য, ধীর স্থির তিনি জন্ম মৃত্যুর বৃত্ত থেকে চিরমুক্ত। জয় করেছেন এই পরম দুটি সত্যকে। ব্রহ্মের ন্যায় নির্দোষ তিনি। ব্রহ্মেই তাঁর লক্ষ্য। ব্রহ্মেই তিনি অবস্থান করেন। যিনি সকল প্রকার মোহ শূন্য, প্রিয় ও অপ্রিয় বস্তুর প্রতি যার কোন আকর্ষণ নেই, যিনি নির্লিপ্ত, তিনি ব্রহ্মে অবস্থান করেন। পার্থিব সকল সুখ বা দুঃখ তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। তিনি অক্ষয় সুখ ভোগ করেন।
হে পার্থ, জ্ঞানী ব্যক্তিরা ইন্দ্রিয়সুখ বিসর্জন দেন। কোন আসক্তি থাকে না। প্রীতির পাত্র হন।
যিনি দেহত্যাগের সময় কাম, ক্রোধের বেগ সহ্য করতে সক্ষম হন, তিনিই পরম যোগী। সংযত চিত্ত। মুখ ও দেহের পরিভাষা মার্জিত হলে, ব্রহ্ম প্রাপ্তি হয়। ভ্রু যুগলের মাঝে নয়নকে স্থির করে, বায়ু প্রবাহকে সংযত করলে, মন ও ইন্দ্রিয়দের সংযত করলে, ভয় দূর হয়। নিশ্চিতরূপে মুক্তি লাভ হয়।
তাই পার্থ, “আমাকে” সব অর্পণ কর। যোগীরা তাঁদের সকল কিছু “আমার” পায়ে অর্পণ করেন, মুক্তি লাভ করেন। সদা শান্তি বিরাজ করে। “আমার” অনন্ত কৃপার অধিকারী হন!!

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।