সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ২২)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা:
অষ্টম অধ্যায় : অক্ষরব্রহ্ম যোগ : প্রথম পর্ব :
অর্জুন শ্রী ভগবানের নিকট জানতে চাইলেন যে ব্রহ্ম কি? কর্ম কি? অধিভূত ও অধিদৈবই বা কি? অধিযজ্ঞ কে এই জড় দেহে? কি রূপে অবস্থান করেন? মৃত্যুকালে জিতেন্দ্রিও ব্যক্তি সকল কি প্রকারে তাঁকে জানতে সক্ষম হন।
পরমেশ্বর বললেন এই নিত্য বিনাশ রহিত জীবকে ব্রহ্ম বলা হয় এবং তাঁর নিত্য স্বভাবকে অধ্যাত্ম বলে। ভূতগণের উৎপত্তি ও বৃদ্ধিকর সংসারই কর্ম। তিনি অর্জুনকে আরো বললেন যে সূর্য, চন্দ্র আদি সকল দেবতাদের সমষ্টিরুপ বিরাট পুরুষকে অধিদৈব বলা হয়। দেহধারীদের অন্তিম ক্ষণে তিনি অধিযজ্ঞ রূপে আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করেন। মৃত্যুকালে যেই ব্যক্তি তাঁকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন, তিনিই তৎক্ষণাৎ তাঁরই ভাব প্রাপ্ত হন। তাই জীবনের অন্তিম চরণে যিনি যে ভাব স্মরণ করেন, তিনি সেই ভাবে ভাবিই প্রাপ্ত হন।
তাই জনার্দন তাঁর পরম সখাকে উপদেশ দিলেন যে তিনি তাঁকেই একমাত্র স্মরণ করে এই মহা সমরে অগ্রসর হন, তাহলেই মন ও বুদ্ধি তাঁর চরণে অর্পিত হবে এবং পরিশেষে তাঁকেই প্রাপ্ত করবেন। অভ্যাস যোগের মাধ্যমে যিনি প্রতিক্ষণ তাঁকে চিন্তা করেন, তিনি নিঃসন্দেহে তাঁকেই লাভ করেন।
জীবের উচিত সেই সর্বোত্তম, সর্বজ্ঞ, সনাতন পরমব্রহ্মকে চিন্তা করা এবং পার্থিব সকল অভিলাষ, অপূর্ণতা ও গ্লানি তাঁর পাদপদ্মে সমর্পিত করা। এই পরম পুরুষের আদি বা অন্ত নেই। তিনি অনন্ত। তিনি সূর্যের ন্যায় জ্যোতির্ময় ও জড়া প্রকৃতির অতীত। যিনি মৃত্যুকালে স্থির চিত্তে, অনাবিল ভক্তি সহকারে ও যোগশক্তির বলে আপন ভ্রু যুগলের মাঝে প্রাণ বায়ুকে স্থাপন করে পরমেশ্বরের কথা মননে ঠাঁই দেন, তিনিই অবশ্যই তাঁকেই প্রাপ্ত হন।
যোগ অভ্যাসের প্রাক্কালে সকল ইন্দ্রিয়কে সংযত করে, আপন প্রাণবায়ুকে ভ্রু মধ্যে স্থাপন করে, ওম শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে পরমেশ্বরকে স্মরণ করা উচিত। মৃত্যকালেও সম প্রক্রিয়াকে আশ্রয় করলে এক পরমা গতি প্রাপ্ত হয়।
অবশেষে ভগবান পার্থকে বললেন একাগ্রচিত্তে যে ব্যক্তি নিরন্তর তাঁকেই স্মরণ করেন, সেই পরম ভক্তের নিকট তিনি অত্যন্ত সুলভ।
ক্রমশ …