শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা :
ষোড়শ অধ্যায় : দৈবাসুর সম্পদ যোগ : প্রথম পর্ব :
ভগবান অর্জুনকে বললেন যে ভয়শূন্যতা, সত্তার পবিত্রতা, দান, ধ্যান, পার্থিব জ্ঞানের অনুশীলন, সরলতা, অহিংসা, সত্যপরায়ণতা, নম্রতা, শীতলতা, ক্রোধশূন্যতা, লজ্জা, তেজ, ক্ষমা, নীরবতা প্রভৃতি গুণগুলো দিব্যভাব সম্পর্কিত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়। অন্যদিকে দম্ভ, দর্প, ক্রোধ, অভিমান, রূঢ়তা, অবিবেকী আচরণ – এই সকল আসুরিক প্রবৃত্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায়।
পরমেশ্বর আরো বললেন যে দৈবী সম্পদ মুক্তির কারণ এবং আসুরিক সম্পদ
গুলো বন্ধনের একমাত্র লক্ষণ। তাই পার্থের শোক বা দুঃখ করবার কোন কারণ নেই। তিনি দৈবী সম্পদ সহ জন্মগ্রহণ করেছেন।
এই জড় সংসারে দুই প্রকার জীব সৃষ্টি হয়েছে : দৈব ও আসুরিক। আসুরিকভাব সম্পন্ন ব্যক্তিরা ধর্ম ও অধর্মের মধ্যে প্রভেদ করতে জানেন না। তাঁদের মাঝে সত্যতা, সদাচার ও ধার্মিকতা বিদ্যমান নেই। তাঁদের মতে এই জগৎ মিথ্যা, অবলম্বনহীন ও পরমেশ্বরশূন্য। শুধুমাত্র কামের কোমল স্পর্শের দ্বারা এই জগৎ সৃষ্টি হয়েছে। তাই কামনাবিনা অন্য কোন কারণ নেই। এই প্রকার মনন নিয়ে, হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে, স্বল্প বুদ্ধিকে আশ্রয় করে এবং উগ্রতাকে প্রশ্রয় দিয়ে আসুরিক প্রবৃত্ত সম্পন্ন ব্যক্তিরা এক অসীম ধ্বংসলীলায় নিজেদেরকে উৎসর্গ করেন।
এই আসুরিক প্রবৃত্ত সম্পন্ন ব্যক্তিরা কামকে আশ্রয় করে, দম্ভ, মান ও মদমত্ত হয়ে নানা অশুচি কার্যে ব্রতী হন।
দুশ্চিন্তাকে আশ্রয় করে, মৃত্যুকাল পর্যন্ত কামনাকে আশ্রয় করে ইন্দ্রিয়সুখকে একমাত্র উদ্দেশ্য বলে নির্ধারণ করেন। এই প্রকার শতশত নাগপাশে আবদ্ধ হয়ে, আপন কামনা চরিতার্থ করবার উদ্দেশ্যে নানা অসৎ পথ অবলম্বন করে থাকেন।
ক্রমশ..