সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ২১)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
সপ্তম অধ্যায়ঃ : জ্ঞান বিজ্ঞান যোগ : দ্বিতীয় ও অন্তিম ভাগ :
ভগবান বললেন তাঁর সখাকে যে আর্ত, অর্থার্থী , জিজ্ঞাসু ও জ্ঞানী – এই চার প্রকার পুণ্যগণ তাঁর উপাসনা করে থাকেন। তবে এই চার প্রকারের মধ্যে নিত্যযুক্ত এবং তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ রূপে নিবেদিত, এই প্রকার ব্যক্তিগণ তাঁর অতীব প্রিয়। উল্লেখ্য ভগবানের সাথে একই সূত্রে গাঁথা। জ্ঞানীগণ ভগবানের প্রতিবিম্ব। তাঁর আত্মস্বরূপ।তাঁর পাদপদ্মে আপনাকে উৎসর্গ করে তাঁকে লাভ করেন।
তবে এই রূপ ভাব বহু জন্মের পর হয়ে থাকে। সকল জীবের কল্যাণ সাধনের স্বার্থে তিনি নিজেকে ঈশ্বরের চরণে সমর্পিত করে থাকেন। তিনি আরো বলেন যে একই রূপে মহাত্মা অত্যন্ত দুর্লভ।
যেই সকল মনুষ্যগণ জড় কামনার দ্বারা পীড়িত , তাঁরা অন্যান্য দেব দেবীর শরণাগত হয়ে তাঁদেরই উপাসনা করেন। তাঁরা জানেন না বা অজ্ঞাত যে প্রকৃত অর্থে তাঁরা তাঁরই ভজনা করছেন। তাই পরমাত্মারূপে তিনি সকল জীবের মাঝে বিদ্যমান।
তিনি আরো বললেন যে স্বল্পবুদ্ধি সম্পন্ন জীবগণ তাঁদের উপাসনার সম্পূর্ণ ফল প্রাপ্ত করতে অসমর্থ। সেই ফল অস্থায়ী। যাঁরা দেবগণের আরাধনা করেন তাঁরা দেবলোক প্রাপ্ত হন। কিন্তু যারা ভগবানের শরণাপন্ন হন, তাঁরা তাঁর পরম ধাম প্রাপ্ত করে থাকেন। অন্যদিকে বুদ্ধিহীন ব্যক্তিগণ যাঁরা তাঁর প্রকৃত অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত নন, অজ্ঞানের অন্ধকার গ্রাস করেছে, তাঁরা তাঁর অব্যয়, অক্ষয় ও অনন্ত রূপ কে অনুধাবন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
এই নিখিল ব্রহ্মান্ডের একমাত্র চালক শক্তি রূপে তিনিই বিদ্যমান। তাঁর আদি বা অন্ত নেই। তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞাত। তিনি সকলের মাঝেই আছেন, কিন্তু তাঁর মাঝে কেউ নেই।
ভগবান অর্জুনকে বললেন যে জীবগণ ইচ্ছা ও দ্বেষ দ্বারা পীড়িত হয়ে, বারংবার এই পৃথিবীতে ফিরে আসে। মোহাছন্ন। তাই প্রকৃত সত্যের থেকে বহুদূরে থাকে। কিন্তু যাঁদের পাপ স্কলিত হয়েছে, মোহমুক্ত হয়েছেন, সৃষ্টির রহস্য ও সত্যতা সম্পর্কে জ্ঞাত হয়েছেন, তাঁরা দৃঢ়তাকে অবলম্বন করে তাঁরই পূজা করে থাকেন।
প্রকৃত বুদ্ধিমান জীবেরা জড়া ও মৃত্যুর থেকে মুক্তিলাভের উদ্দেশ্যে তাঁর শরণাগত হন। তাঁরা ব্রহ্মভূত। সকল আধ্যাত্মিক কর্মসূচি সম্পর্কে অবগত। পরিশেষে যাঁরা অধিভূত, অধিদৈব ও অধিযজ্ঞ সহ তাঁকে পরমেশ্বর রূপে উপাসনা করেন, তাঁরা তাঁর প্রতি আসক্ত। মৃত্যুকালেও তাঁকে যথাযত রূপে জানতে সমর্থ হন!!
সমাপ্ত