সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ১৯)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
ষষ্ঠ অধ্যায় : অভ্যাস যোগ : তৃতীয় ও অন্তিম ভাগ
ভগবান বললেন যে যোগী স্থিতিশীল এবং তাঁকে পরমাত্মা রূপে ভজনা করেন, তিনি সদা তাঁর হৃদয় বিরাজ করেন। শ্রেষ্ঠ যোগী উনি যিনি সকল জীবের সুখ দুঃখ সমানভাবে দর্শন করেন।
অর্জুন বললেন যে মন স্বভাবজাত চঞ্চল বলে উনি এই যোগ সাধনার স্থায়ী স্থিতি দর্শন করতে পারছেন না। তিনি আরো বললেন যে মন অত্যন্ত চঞ্চল। এই শরীর ও ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করে এই মন। তাই মনকে বশীভূত করা বায়ুর অপেক্ষা এক অতীব কঠিন অভিপ্রায়!
অর্জুনের সংশয় নিবৃত্ত করবার উদ্দেশ্যে ভগবান বললেন যে এই ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই মন অতীব চঞ্চল। তবু অভ্যাস ও বৈরাগ্যর দ্বারা তাঁকে নিয়ন্ত্রণ বা বশীভূত করা সম্ভব। যাঁর চিত্ত অতীব চঞ্চল, অসংযত, তাঁর পক্ষে যোগ সিদ্ধিলাভ করা কঠিন। কিন্তু প্রকৃত যোগী পুরুষ আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিদ্ধিলাভ করে থাকেন।
ভগবানের এই কথায় অর্জুন জিজ্ঞাসা করলেন সেই ব্যক্তির পরিণতি যিনি প্রথমে যোগযুক্ত হয়ে পশ্চাতে যোগভ্রষ্ট হন। অর্জুন তাঁর সখাকে তাঁর সংশয় দূরীভূত করবার জন্য অনুরোধ করলেন। ভগবান হেসে উত্তর দিলেন। তিনি বললেন যে শুভ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি কখনও অধোগতি প্রাপ্ত হন না। ইহলোক ও পরলোক – উভয় ক্ষেত্রেই উনি সমান ভাবে বিরাজ করেন। সদা আনন্দিত থাকেন।
অর্জুনকে তৃপ্ত করবার শুভ উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন যে যোগভ্রষ্ট ব্যক্তি বহুকাল স্বর্গ সুখের পর কোন জ্ঞানী ব্রাহ্মণ বা ধনী বণিকের গৃহে জন্ম গ্রহণ করেন। এই প্রকার জন্ম দুর্লভ। পূর্বজন্মের যোগ সাধনার পথ অবলম্বন করেন। তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন। এবং সেই পথ অনুসরণ করে এক উৎকৃষ্ট ফল লাভ করেন। এক কথায় যোগী আরো অধিক যত্নশীল হয়ে ওঠেন। সকল প্রকার পাপ মুক্ত হয়ে যোগ সাধনের পানে অগ্রসর হন। পরম সাধনার দ্বারা সিদ্ধিলাভ করে এক পরমগতি লাভ করেন।
ভগবান বললেন যোগী সকলের চেয়ে উর্দ্ধে বিরাজ করেন। তিনি তপস্বীগণ, জ্ঞানীব্যক্তি ও সকাম কর্মীদের অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। অতএব অর্জুনকে তিনি এক পরম যোগী হতে পরামর্শ প্রদান করেন।
তাই যিনি ভগবানের আরাধনা করেন, কায়মনোবাক্যে তাঁকে ভজনা করেন, তিনি সদা তাঁর সাথে যুক্ত থাকেন। কোনো প্রকার পার্থিব ছায়া তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। তাঁর চেতনা সদা নির্মল থাকে। তিনি সকল যোগীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আসন লাভ করেন!!
সমাপ্ত