নও তুমি কাশীর অন্নপূর্ণা,
অমৃত পূর্ণ কলস যার অঙ্গে,
স্বয়ং মহেশ্বর দ্বারস্থ যেখানে আজ,
এক মুঠো অন্নের প্রয়োজনে!
দেবী দান করলেন অন্ন তাঁকে,
বুঝিয়ে দিলেন তিনিই বিশ্ব পালিকা,
রচনা করেছেন ভূমি,
জন্ম দেবে যে অন্ন,
সৃষ্টি করেছেন আকাশ,
যার কালো মেঘের বৃষ্টির ধারায়,
ধন্য হবে পুণ্য রাজার দেশ!
আর সৃষ্টি করেছেন কৃষক ভাইদের,
অক্লান্ত পরিশ্রমে যারা তুলে দিচ্ছে সেই অন্ন,
যুগ যুগ ধরে অব্যাহত –
এই ত্যাগের কাহিনী!
কিন্তু এই ত্যাগের মর্ম বোঝে কতজন?
কতজন স্বীকার করে উঠোনে তাদের,
গোলায়ে ভরা ধান ও শস্য,
অন্নপূর্ণা মন্দিরের সমান!
জমিদার ও নায়েবের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করতে অক্ষম তারা,
তাই বুঝি ষড়যন্ত্রের শিকার তারা!
সৌভাগ্য রূপান্তরিত হয়ে দুর্ভাগ্যে!
ছিনিয়ে নেওয়া হয় মুখের অন্ন!
তবুও অবিরাম এই সংগ্রাম,
প্রতিক্ষণ অপেক্ষা এই দিনটির,
আসবে কবে নবান্ন,
নতুন ধান,
নতুন প্রাণ!
তাই আশায় বুক বাঁধে চাষা তাই,
মেতে ওঠে সে অনাবিল আনন্দে,
মুছে ফেলে সকল পুরানো স্মৃতি,
সকল গ্লানি,
সকল অভিমান!
বাঁচতে শেখায় সে নতুন করে,
রয়েছে যেখানে প্রাণ,
রয়েছে যেখানে জীবন,
রয়েছে যেখানে জয়গান!!