প্রকৃতির ঋতু চক্রের মাঝে,
এসে ধরা দাও তোমরা সকলে,
হয়ে ওঠ এক অপরিহার্য অংশ,
শূন্য কুম্ভ ভরে ওঠে এক অনাবিল আনন্দ ধারায়,
সিক্ত করে তোলে এই কায়া ও ছায়াকে,
গ্লানি তখন বহুদূরে,
যন্ত্রনা তখন এক অচিন পাখি!
বিষময় বাতাবরন তখন এক অতীত,
অমৃতের স্পর্শে তখন ধন্য এই বসুন্ধরা!
এল বৈশাখ,
সূচিত হল নব অধ্যায়,
পরনে নতুন বস্ত্র, হাতে পূজার থালা,
মুখে স্নিগ্ধ হাসি ও শুভ কামনা,
তারই মাঝে নববর্ষের আগমন বার্তা!
জ্যৈষ্ঠ মাসে তীব্রতার মাঝেও,
নব দম্পতি প্রচেস্ট হয়ে এক নতুন উৎসব পালনে,
নাম তার জামাইষষ্ঠী!
এর পর একে একে আষাঢ়, শ্রাবণের ধারায়,
তৃপ্ত এই ধরণী!
জগৎপালক জগন্নাথের রথ যাত্রা বয়ে নিয়ে আসে,
মিলনের সুর,
একতার জয়গান!
শ্রাবণের সমাপ্তি ও ভাদ্রের আরম্ভে,
অনুষ্ঠিত হয় পরাধীনতার গ্লানি ভুলিয়ে,
আমাদের মুক্তির দিবস-১৫ই আগস্ট!
দেখতে দেখতে আকাশে ভিড় করে পেঁজা তুলোর- মত মেঘরাশি:
কাশফুলের সৌন্দর্যের আঙিনায়,
বেজে ওঠে আগমনীর সুর!
হিল্লোল ওঠে এই মননে,
পাড়ায় পাড়ায় তখন মাতৃ উপাসনার,
এক বৃহৎ কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি!
পূজা পর্যায়ের এই অবিরাম আনন্দ
চলে কার্তিক মাস জুড়ে!
তবুও যেন আরও পেতে চায় এই মন,
প্রশান্ত হতে চায় এই পার্থিব অস্তিত্ব!
অগ্রহায়ণ ও পৌষের দৌলতে,
ফোঁটে হাসি কৃষকের মুখে,
নবান্ন ঘরে ঘরে সৃষ্টি করে,
এক সুরক্ষা কবজ!
পরিত্রাতা যীশুর জন্মদিন,
উজ্যাপিত হয় খৃস্টমাস!
কেক পেস্ট্রি জিভে আনে জল।
মাঘের শীতল স্পর্শে,
বাগদেবীর আরাধনা-
হলুদ বসনে হয়ে ওঠে অনন্য!
চোখের পলকে চলে আসে বইমেলা-
বইয়ের ভিড়ে হারিয়ে যায় মনপ্রাণ,
কে জানে, কোথায়?
তবুও প্রাণের উৎসব সে,
যায় না যাকে কোনভাবেই ভোলা!
আর প্রেমের দিবস,
সে তো ফাগুনে আগুন লাগায়,
প্রেমিকের মনে-
নাম তার ভ্যালেন্টাইন্স ডে!
ছবি, উপহারে কেড়ে নিতে চায় মন,
জানে না সে প্রেম যে আজ বহুদূর!
চলে আসে সাতরঙের খেলা,
নাম তার হোলি-
রঙের স্পর্শে হয়ে ওঠে,
এই দিন ভিন্ন,
সকলের মুখে রং দে বসন্তী,
রেখে যায় এক অমর চিহ্ন!
চড়ক মেলার কথা কি ভোলা যায় আর?
চৈত্রই যে তার জন্মভূমি!
বসন্তে বাসন্তী পূজা-
মনে পড়ে শরতের দশভুজা।
যুগে যুগে বহন করে চলেছি,
আমরা এই পালাপার্বণের ধারা,
তবু নৈরাশ্য যে আজও গ্রাস করতে চায়,
আমাদের এই কায়া!
উৎসবের ঢেউ আঁচড়ে পড়ে,
এই মননের সৈকতে,
প্রদান করে এক স্বস্তি!
কিন্তু এই সুখ সূর্য অস্তিমিত হয়,
এই সামাজিক অস্থিরতায়!
বছর ঘোরে, ঋতু আসে বারবার,
জানান দেয় এক চির সত্য,
দুঃখের মাঝেই তো সুখের উপলব্ধি,
তাই বুঝি জীবন এত সুন্দর,
এত প্রত্যাশাময়,
এত আনন্দময়!!