আজকের লেখায় কুণাল রায়

সিন্ধুনরেশ এক অধার্মিক শাস্তি অবশ্যম্ভাবী

কুরুক্ষেত্রের পুণ্যভূমি। স্বয়ং সূর্যদেব সাক্ষ্য বহন করে চলেছেন এই মহাসংগ্রামের। একদিকে অর্জুন ও তাঁর সখা ভগবান শ্রী কৃষ্ণ। অন্যদিকে সিন্ধু নরেশ জয়দ্রত ও কৌরবসেনা। গুরু দ্রোনাচার্য এক বৃহৎ চক্রবুহ্য রচনা করেছেন। পূর্বেই অর্জুন পুত্র অভিমুন্যূ এক ঘোর যুদ্ধে তাঁর প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। তাই আজ মহাবীর অর্জুনের তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবার এক স্বর্ণসুযোগ উপস্থিত।
কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুন দেখলেন জয়দ্রতকে রক্ষা করবার অভিপ্রায় এ কুরুসেনা উপস্হিত। অনুধাবন করতে পারলেন সিন্ধুনরেশকে বধ করে তাঁর প্রতিজ্ঞা রক্ষা করা এক অতি অসম্ভব ব্যাপার! কিন্ত যেখানে শ্রী কৃষ্ণ উপস্থিত, সেখানে বিজয় ও শ্রী সবসময় বর্তমান, নিঃসন্দেহে! জনার্দন তাঁর মায়াবলে আকাশের সূর্যদেবকে আবৃত করলেন। সৃষ্টি হল এক মায়াময় পরিবেশ। সন্ধ্যাকাল উপস্থিত। আর মৃত্যুভয় নেই। আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করল কৌরবকুলের অট্টহাসি! দুঃশলাপতি এক অহংকারের বশীভূত হয়ে সকলের সম্মুখে নিজেকে প্ৰকাশ করলেন।নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস! শ্রী কৃষ্ণ মায়ামুক্ত করলেন সূর্যদেবকে। অর্জুনকে বললেন:”সূর্য এখনও পশ্চিমে অস্ত যায়নি। ওই হল সূর্য আর এই হল জয়দ্রত। আপন প্রতিজ্ঞা পূর্ণ কর পার্থ”। পরিশেষে পার্থ সিন্ধুনরেশের শিরোচ্ছেদ করলেন, যা পতিত হল তাঁর পিতা বৃদ্ধকশত্রের কোলে। এক মুঠো ভস্ম ছাড়া আর কিছুই ছিল না সেদিন! অধর্ম পরাভূত হয়ে, ধর্মের প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হল।
অর্জুন নিজেকে অগ্নিতে সমর্পিত করবেন বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন সেদিন। কিন্তু মুহূর্তেই পরিবর্তিত হয় পরিস্থিতি। প্রাণাহুতি দিতে হয়ে অধার্মিক জয়দ্রতকে। নিষ্ক্রিতি পায়েনি তাঁর পিতাও। যেখানে স্বয়ং পরমেশ্বর নেমে এসেছিলেন এই ধরাধামে, ধর্মের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে, সেখানে অধর্ম উৎপাটিত হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক! এবং তাই হয়েছিল কুরুক্ষেত্রের প্রাণের মাঝে!!
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।