সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ১৮)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা গীতা
ষষ্ঠ অধ্যায় : দ্বিতীয় ভাগ : সামগ্রিক ভাবে পর্ব ১৮ :
ভগবান বললেন যে অধিক ভোজন রসিক, অনাহারী বা অধিক নিদ্রা প্রিয় বা নিদ্রা শূন্য, এমন ব্যক্তির যোগী হয়ে ওঠা সম্ভব নয়। বরং যিনি পরিমিত আহার করেন, অভ্যাস করেন, নিদ্রা ও জাগরণ নিয়মিত, তিনিই কেবল ধ্যান যোগ দ্বারা সকল পার্থিব দুঃখ ও ক্লেশ দূরীভূত করতে সক্ষম হন। যোগী তাঁর সকল পার্থিব উচাটন থেকে মুক্তি লাভ করে, আপন চিত্তকে সংযমের দ্বারা আত্মাকে প্রতিস্থাপিত করতে সক্ষম হন তখনই উনি যোগযুক্ত হন।
তিনি তাঁর সখাকে আরো বলেন যে বাতাস শূন্য স্থানে যেমন প্রদীপের শিখা স্থির থাকে, তেমনই প্রকৃত যোগযুক্ত ব্যক্তির চিত্তের শিখা অবিচলিত থাকে। আত্মা এক পরম শান্তি প্রাপ্ত করে।
যোগ অভ্যাসের ফলে যোগী যখন তাঁর সকল পার্থিব চাওয়া পাওয়া থেকে মুক্তি লাভ করে, একাগ্র চিত্তে মন নিবেশ করে আত্মার সাথে পরমআত্মার মিলন ঘটান, তখন এক দৈব আনন্দ তাঁকে গ্রাস করে। পার্থিব সকল কিছুর উর্দ্ধে তখন তিনি। কোনো প্রকার বাহ্যিক সুখ, দুঃখ, আশা, নিরাশা তাঁকে চঞ্চল করে তুলতে পারে না। তাই ভগবান বলেন এটি কেবল প্রকৃত মুক্তির পথ।
এক কঠোর অধ্যাবসায় ও বিশ্বাস সংগ্রহ করে এই যোগ অভ্যাস করা বাঞ্চনীয়। সকল প্রকার কামনা ত্যাগ করে, মনের দ্বারা সকল ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রিত করে যোগ অভ্যাস করা উচিত। বুদ্ধি, ধৈর্য্য ও নিয়ন্ত্রিত চিত্তের দ্বারা ধীরে ধীরে আত্মাকে স্থির করা কাম্য। এবং সকল চিন্তা থেকে মুক্তি লাভ করে সমাধিস্তত হতে হয়। মন বড়ই চঞ্চল। এক প্রাকৃতিক নিয়ম। তাই মনকে নিয়ন্ত্রিত করে যোগ অভ্যাসের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে হয়।
ভগবান উল্লেখ করেন যাঁর ব্রহ্মভাব সম্পন্ন, চিত্ত উৎফুল্ল, রজগুণ প্রশমিত ও নিষ্পাপ রূপে তাঁর পাদপদ্মে আপনাকে উৎসর্গ করেন, তিনিই প্রকৃত সুখের অধিকারী হন। এই রূপেই আত্ম সংযমী সকল জড়চেতনার থেকে মুক্তি লাভ করে, পরব্রহ্মের নিকট পৌঁছান ও এক অসামান্য আনন্দ উপভোগ করেন। প্রকৃত যোগী সদা তাঁকে দর্শন করেন ও তাঁর মধ্যে বিদ্যমান সকল কিছু দর্শন করেন। তাই যিনি সদা তাঁকেই দর্শন করেন, সব কিছু তাঁরই মাঝে দর্শন করেন, তিনি তাঁকে সদা কৃপা করেন। পরস্পরের অগোচর কখনো হন না।
ক্রমশ…