শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা :
পঞ্চদশ অধ্যায় : পুরুষোত্তম যোগ : প্রথম পর্ব :
পরমেশ্বর অর্জুনকে বললেন যে ঊর্ধমূল ও অধঃশাখা -বিশিষ্ট একটি অব্যয় অশ্ব বৃক্ষের কথা বলা হয়েছে। বৈদিক মন্ত্রসমূহ সেই বৃক্ষের পত্রস্বরূপ। যিনি এই বৃক্ষটিকে জানেন, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী।
ভগবান আরো বললেন যে এই বৃক্ষের শাখা সমূহ জড়া প্রকৃতির তিনটি গুণের দ্বারা পুষ্ট হয়ে নিম্নে ও ঊর্ধে বিস্মৃত। ইন্দ্রিয়ের যে সকল বিষয় সমূহ বর্তমান তা এই শাখাগণের পল্লব। এই বৃক্ষের মূল প্রসারিত এবং সেগুলো এই পৃথিবীতে সকাম কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ। এই বৃক্ষের প্রকৃত রূপ জানা সম্ভব নয়। এর আদি, অন্ত ও স্থিতি সকলের অজানা। একমাত্র তীব্র বৈরাগ্যকে অবলম্বন করে এই বৃক্ষকে ছেদন করা সম্ভব। তবেই সত্যের দর্শন পাওয়া সম্ভব। তাই সেই পরম আদি পুরুষের স্বরণাগত হওয়া আবশ্যক যাঁর থেকে সকল কিছু প্রবর্তিত ও বিস্মৃত হয়েছে।
যাঁরা সকল পার্থিব কামনা, বাসনা, দ্বেষ, কষ্ট, যন্ত্রণা , সুখ -দুঃখ থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত, তারাই কেবল সেই অব্যয় পদ লাভ করেন।
তিনি আরো বলেন যে সূর্য, চন্দ্র, অগ্নি তাঁর পরম ধামকে প্রকাশিত করতে পারে না। সেই স্থানে গেলে, পুনরায় এই ধরাধামে ফিরে আসতে হয় না।
এই জড়া জগৎ তাঁরই অংশ। এই প্রকৃতির আবধ্য হওয়ার ফলে জীব এক নিত্য সংগ্রামে রত। বাতাস যেমন ফুলের গন্ধ নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যায়, তেমনি এই জড় দেহের ঈশ্বর এক শরীর থেকে অন্য শরীরে যাত্রা করে এবং জীবনের সকল ধারণাগুলো বহন করে।
ভগবান অর্জুনকে বললেন জীব তাঁর পঞ্চ ইন্দ্রিয়কে আশ্রয় করে ইন্দ্রিয়ের বিষয়সমূহ উপভোগ করে। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা দেখতে পান না কি প্রকারে জীব দেহত্যাগ করছে এবং প্রকৃতির গুণের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পরবর্তী শরীর উপভোগ করছে। কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তিরা এই সকল কিছু দেখতে ও উপলব্ধি করতে সক্ষম।
একমাত্র আত্মজ্ঞানে বিলীন যোগীগণ এই মহৎ তত্ত্ব দর্শন করতে পারেন। কিন্তু অবিবেকীগণ যত্ন পরায়ণ হয়েও এই তত্ত্ব সম্পর্কে অবগত হন না।
ক্রমশ…