সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ২৬)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা:
একাদশ অধ্যায় : বিশ্বরূপ দর্শন যোগ : প্রথম পর্ব :
অর্জুন অকপটে স্বীকার করলেন যে ভগবান তাঁর প্রতি করুণা করে যে পরম গুহ্য উপদেশ দিয়েছেন, তাতে তাঁর সকল প্রকার মোহ দূর হয়েছে। তিনি ভগবানকে পদ্মপলাশলোচন বলে উল্লেখ করলেন। অর্জুন অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছেন যে এই সৃষ্টি তাঁর থেকেই শুরু হয়ে তাঁরই মাঝে বিলীন হয়ে যায়। অর্জুন তাঁর অব্যয় মহিমা সম্পর্কে অবগত হলেন।
অর্জুন ভগবানের দ্বিভূজ রূপে সন্তুষ্ট হলেন না। তিনি ভগবানের বিশ্বরূপ দর্শন করবার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন। পুরুষোত্তমের ঐশ্বর্যময় রূপ দর্শন করবার বাসনা প্রকাশ করলেন। তিনি আরো বললেন যে ভগবান যদি তাঁকে যথাযত মনে করেন, তবেই যেন তিনি তাঁর বিশ্বরূপে দর্শন দেন। ভগবান তাঁকে দিব্যদৃষ্টি প্রদান করলেন। নানা বর্ণ ও নানা আকৃতি বিশিষ্ট শত শত ও সহস্র সহস্র তাঁর বিভিন্ন দিব্য রূপসমূহ দর্শন করলেন। তিনি তাঁর সখাকে দ্বাদশ আদিত্য, অষ্টবসু একাদশ রুদ্র, অশ্বিনীকুমারদ্বয়, উনপঞ্চাশ মরুত এবং অনেক অদৃষ্টপূর্ব আশ্চর্য রূপের দর্শন করান। তিনি অর্জুনকে আরো বললেন যে তাঁর এই বৃহৎ কায়ায়ে একত্রে অবস্থিত স্থাবর – অস্থাবর যা কিছু দর্শন করতে এই হৃদয় পিপাসু, তা তিনি এই ক্ষণেই যেন দর্শন করেন। অর্জুন চর্মচক্ষু দিয়ে নয়, দিব্যদৃষ্টির দ্বারা দর্শন করলেন।
হস্তিনাপুরে সঞ্জয় রাজা ধৃতরাষ্ট্রকে বললেন যে ভগবান অর্জুনকে তাঁর বিশ্বরূপ দর্শন করালেন।
অর্জুন সেই বিশ্বরূপে বহুমুখ, বহুনেত্র ও বহু অদ্ভূত দর্শনীয় বস্তু দেখলেন। সেই রূপ দিব্য অলংকারে সুসজ্জিত। তাঁর কায়া দিব্যগন্ধ দ্বারা অনুলিপ্ত। আশ্চর্যজনক, জ্যোতির্ময়, অনন্ত ও সর্বব্যাপী। এই গগনে সহস্র সূর্য একত্রিত হলেও এই বিশ্বরূপ অপেক্ষা বড় নয়।
ক্রমশ..