আর তোমার ছোট্ট গৃহে,
তোমার জগৎজননী,
নয় সে দশভূজা,
নয় সে অসুরদলনী,
তবুও জগৎজননী!
দশমাস দশদিন,
আপন রক্ত মাংসের গর্ভে,
তিলতিল করে চলেছে –
প্রতিপালনের,
এক অনবদ্য প্রক্রিয়া!
ভূমিষ্ট:
সকল পার্থিব সুখ স্বাচ্ছন্দে,
ধীরে ধীরে,
তাকে জগতের মুখোমুখি করবার,
এক দৃঢ় সংকল্প!
আপন সর্বশক্তি দিয়ে,
আপন সন্তানকে রক্ষা করা-
নেই কোন দৈবশক্তি,
নেই ত্রিনয়নের জ্বলন্ত অগ্নি শিখা,
আছে শুধু এক মায়ের প্রাণ,
এক সমুদ্র স্নেহ,
এক আকাশ প্রেম,
একরাশ শুভ কামনা!
কিন্তু তবুও লাঞ্ছিতা সে,
আপন ছোট্ট গর্ভে স্থান দিলেও,
সন্তান আজ অপারক-
আপন বিশাল আবাসনে,
স্থান দিতে তাঁকে!
নিয়তি,
তুমি কত নিষ্ঠুর!
প্রতিদানের এক নগ্ন চিত্র,
সমাজের বুকে আঁকা হয়েছে আজ!
যুগে যুগে এই মায়েরা অবহেলিত,
নারীর শ্রেষ্ঠতম বহিঃপ্রকাশ যার অন্তরে-
বাহিরে!
ও আমার দুর্গা,
ও আমার দশভূজা,
সন্তানের পীড়ায় কাঁদে তোমার মন,
আর তোমার সন্তান?
কত অসহায় তুমি আজ,
কত দুর্বল তুমি আজ,
আপন অংশের শুভ কামনায়,
তুমি আজ করজোড়ে দেবীর
মুখোমুখি,
জানবে কবে সে,
তুমি আর দেবী-
দুই ভিন্ন কায়ায়ে,
একই সত্তা,
একই রূপ,
একই বহিঃপ্রকাশ!!