সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ১৭)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (এক ধারাবাহিক আলোচনা)
ষষ্ঠ অধ্যায় : ধ্যান যোগ : প্রথম পর্ব
ভগবান বললেন যিনি কর্মফলের প্রতি আপন আসক্তি ত্যাগ করে কর্ম করেন, তিনিই যথার্থ সন্ন্যাসী বা যোগী। কিন্তু পার্থিব সকল কামনা ত্যাগ না করলে কখনই প্রকৃত যোগী হওয়া সম্ভব নয়। অষ্টাঙ্গযোগ অনুষ্ঠানে যারা নবীন, তাঁদের পক্ষে কর্ম অনুষ্ঠান করাই উৎকৃষ্ট সাধন, আর যাঁরা ইতিমধ্যে যোগী হয়ে উঠেছেন, তাঁদের পক্ষে সকল পার্থিব কর্ম থেকে নিবৃত্তিই উৎকৃষ্ট সাধনরূপে স্বীকৃত। একজন প্রকৃত যোগীর উচিত ইন্দ্রিয়ভোগ্য ত্যাগ করা। সকাম কর্মের প্রতি আসক্তি না থাকা। দীর্ঘদিনের অভ্যাসের পর সম্ভব।
সাধারণ মানুষের উচিত মনের দ্বারা এই চেতনা ও আত্মাকে অধঃপতিত না করা। এই চিত্ত বিভেদ করতে শেখায় – শত্রু ও মিত্রের মধ্যে। চিত্তকে জয় করতে পারলে, সেই পরম সখা। না করতে পারলে পরম শত্রুরূপে প্রকাশ পায়। প্রকৃত যোগীর কাছে শীত গ্রীষ্ম, মান অপমান সবই সমান। প্রকৃত যোগী নির্জন স্থান পছন্দ করেন। সর্বদা নিজ মন ও মস্তিষ্ককে সতর্ক উপায় নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে যোগ অভ্যাস করা এক কঠিন ব্যাপার। পবিত্র স্থানে বসে, মনকে নিয়ন্ত্রিত করে, পবিত্রতাকে প্রকৃত মর্যাদা দিয়ে যোগ অভ্যাস করতে হয়। অবশেষে ভগবান অর্জুনকে বলেন নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে, সকল জড় বিষয় পরিহার করে, তাঁর চরম লক্ষ্য স্থির করতে। এবং সেই লক্ষ্য ‘স্বয়ং উনি’।
এই ভাবেই আপন দেহ, মন ও কর্ম সংযমের মাধ্যমে ধ্যান যোগ অভ্যাস করা উচিত। সকল প্রকার জড় বন্ধন থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ভগবানের পরম ধাম প্রাপ্ত করা সম্ভব।