স্রষ্টার এই বিপুল সৃষ্টিতে না জানি লুকিয়ে আছে কত রহস্য, কত রোমাঞ্চ। সমুদ্র সৈকতে স্পর্শ করা ঢেউ রূপান্তরিত হচ্ছে শত শত বারিবিন্দুতে। এবং সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় হলেন সাহিত্য জগতের ধ্রুবতারা। কোন সাধারণ পথ অবলম্বন করে তাঁর ব্যাপ্তি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। বলা বাহুল্য সুনীল, সমরেশ, বিমলের পাশাপাশি শীর্ষেন্দুর নাম বাঙালির মননের আকাশে চিরতরে অক্ষয় হয়ে রয়ে যাবে।
সাল ১৯৩৫। বাংলাদেশ। শীর্ষেন্দুর জন্মস্থান। পিতার কর্মসূত্রের কারণে তাঁকে নানা জায়গায়ে ঘুরতে হয়ে এক সময়। তবে তাঁর দৃঢ়তার কারণে পড়াশুনার ওপর তেমন একটি প্রভাব পড়েনি। দেশ ভাগের পর তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে আসে। শীর্ষেন্দুর অদম্য স্পীহা এবং অশেষ আগ্রহ তাঁকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করতে সাহায্য করে। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য অনুরাগী ছিলেন শীর্ষেন্দু। পরবর্তী সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত রচনা ” জলতরঙ্গ”। “ঘুনপোকা” সাহিত্যিকের প্রথম উপন্যাস যা দেশ পত্রিকার বার্ষিক সংখ্যায় স্থান পায় এবং অফুরন্ত প্রশংসা লাভ করে। উল্লেখ্য শীর্ষেন্দু এমন একজন সাহিত্যিক যিনি ছোট বড় সকলের জন্য কিছু না কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং করে যাচ্ছেন জীবনের এই পর্যায়ে পৌঁছেও! তাঁর “পাতাল ঘর” এবং “দোসর”,পাঠক এবং চলচ্চিত্র মহলে যথেষ্ঠ সাড়া ফেলেছিল। শিশু সাহিত্য বিভাগের “মনোজদের অদ্ভূত বাড়ি” এক অনবদ্য সৃষ্টি, এক কথায়। বিভিন্ন সময়ে তাঁর রচিত গল্প, উপন্যাস পেয়েছে “সেলুলয়েডের” ভাষা। তাই পরিচালক মহলে শীর্ষেন্দুর একক ছত্র আধিপত্য, প্রকৃত অর্থেই ঈর্ষাজনক!!
শীর্ষেন্দু আজ ৮৫ তে পা রাখলেন। বয়সের ভার বেড়েছে, নিঃসন্দেহে! কিন্তু সৃষ্টি চলেছে তার আপন নিয়মে! আমরা প্রতিক্ষণে অনুপ্রাণিত হচ্ছি, উদ্বুদ্ধ হচ্ছি তাঁর অশেষ মাধ্যমে। লেখকের দীর্ঘায়ু কামনা করি। রবীন্দ্র পরবর্তী যুগে শীর্ষেন্দুর অবদান অনস্বীকার্য। ভূষিত হয়েছেন নানা উপাধিতে। পেয়েছেন অগণিত মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও প্রেম। গর্বিত আমরা আজ। তাঁর হিমালয় সম সৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকুক, এই একমাত্র অভিলাষ!!