প্রবাসী মেলবন্ধনে কল্লোল নন্দী (আটলান্টা) (পর্ব – ২১)

দৈনন্দিন
মুরালি আর পার্থ সন্ধ্যাবেলা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিল। রাস্তা দিয়ে তখন মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলা গান গাইতে গাইতে একটা মিছিল গেল। অনেকের হাতে নানান পোস্টার – বাংলা বাঁচাও, নিজের ভাষায় কথা বলো – এইসব। পিছনে ট্যাক্সি, সাইকেল, বাইক, রিক্সা, অটো, টোটো, ম্যাটাডোর, আর বাসের লম্বা লাইন। ধুলার চোটে চায়ের শেষের দিকটা আর খাওয়া গেল না।
পার্থ মহা-বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা মুরালি এইসব করে কি হবে?
মুরালি বলল, জানো তো বুদ্ধদেব সংস্কৃত না করে কেন পালি ভাষা ব্যাবহার করতেন?
পার্থ বলল, জানি। সংস্কৃত ছিল পণ্ডিতদের ভাষা আর পালি সাধারণের।
মুরালি বলল, ঠিক। বুদ্ধদেব বাস্তবটা বুঝতেন। সবার ভাষাই মাতৃভাষা। মার্কেট ইকোনমিতে যে জিনিষের প্রয়োজনীয়তা আছে সেটাই টেকে।
পার্থ জিজ্ঞেস করল, তার মানে? তুমি কি বলতে চাও বাংলা ভাষার প্রয়োজন নাই?
মুরালি দূরের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা দেখল বেশ কিছুক্ষণ ধরে। তারপর বলল, আমি বেশ অনুধাবন করতে পারছি যে আজ থেকে হাজার বছর আগে অনুরূপ এক অনুগ অনুচর দল অনুগমন করেছিল এই বলতে বলতে যে পালি ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আর অন্য দিক থেকে এসেছিল সংস্কৃতের পৃষ্ঠপোষকেরা সংরক্ষণের দাবী নিয়ে। তারপরে ঐ দুই মার্গের মিলন স্থলে এই দুই দল কি করেছিল সে নিয়ে আমি একটা কপিরাইট করা বই লিখব। মনোনিবেশ করে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা করলে তাদের প্রতি আজ তোমার অনুকম্পাই হবে।
পার্থ বলল, ঊফফ। কিসের থেকে কি?
মুরালি বলল, ভালো করে শোন নি বোধ হয়? বাংলা ভাষাকে সংরক্ষণ করতে হবে – এটাই তো এদের দাবি ছিল। তার মানে, এরাও মেনে নিয়েছে বাংলা ভাষা এখন সংরক্ষণের পর্যায়ে চলে গেছে।