‘পারবো না রে আমি গল্প লিখতে পারিনা। এখন হাত কাঁপে, মুখ শুকিয়ে জ্বিভ জড়িয়ে আসে। ভুলে যা সেসব দিনের কথা। আমি গল্প লিখতে পারি না রে’। কথাগুলো বিড়বিড় করে আওড়াচ্ছিলো বিল্কিস বেগম। গা ভর্তি গহনা, বাহারি রঙের ছাপা শাড়ি, খোঁপায় ফুল, হাতে আঙটি। ‘সন্ধ্যে হয়ে আসছে এক্ষুনি ওরা এসে পরবে তুই যা শিগগীর পালা’। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিল্কিস বাতাসে কাল্পনিক কিছু দেখে হাত নেড়ে আবার বিড়্ বিড়্ করে ওঠে ‘যা বলছি’।
বছর পঁয়তাল্লিশের বিল্কিস বানু বেগম এ অঞ্চলের সেরা ডাক্তার নুসরত আলির নিকাহ্ করা একমাত্র বৌ। সন্তান নেই মরে গেছে। এদিকে রোজ সন্ধ্যায় মদ না খেলে রাতে ঘুম আসে না বানুর। তারওপর বরের জুলুম। ছেলেটা অকালে মরে গেলো হার্টে ফুটো ছিলো জন্ম থেকেই। বাপটা ডাক্তার হয়েও বাঁচাতে পারলো না। হবে না পাপের বোঝা বইবে কে! স্বভাবদোষে এমনটা হলো। নুসরত আলীর স্বভাবে আছে অতিরিক্ত মদ্যপান আর মেয়েছেলের নেশা। বাড়িতে উল্টো পাল্টা লোক সর্বক্ষণ। নোংরা পরিবেশ। বিল্কিস মানিয়ে নিতে পারে না। মুসল্মান হলে কি হবে, মেয়েছেলের কোনো আব্রু নেই, পর্দা নেই এবাড়িতে। সেজেগুজে বসতে হতো বদ মেয়েদের মতো নাগর নিয়ে। মদের ফোয়ারা ছুটতো, চটুল ইঙ্গিত আর নোংরা চুটকি। অনিচ্ছাকৃত দেহদান। সহর নিজেই তার বিবিকে পাঠিয়ে দিতো অন্যলোকের সাথে নিরালায়। বিষগেলার মতো জীবন।
অথচ আগে কিশোরী বানু কতো গল্প লিখতো…প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন ম্যাগাজিনের পাতায়, পুরস্কার সন্মাননাও জুটেছিলো একসময়। এখন সব অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে সাথে ওকে নিয়ে। মরা ছেলেটা মাঝে মাঝে এসে পাশে বসে। বিল্কিস দু:খের কথা বলে, খাতা কলম হাঁটকায়।ও বুঝি মরবে এবার যক্ষা হয়েছে যে… ক্ষয়রোগ। বড়ো ছোঁয়াচে, চিকিৎসা তো দূরের কথা স্বামী ফিরেও দ্যাখে না। সঙ্গী সেই মরা ছেলে আর মদ। গলায় ঢেলেই কাশির দমকে দু চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসে বানুর।’এই যাহ্ যাহ্ যাহ্ চলে যা শিগগির যা এক্ষুনি ওরা এসে পরবে।’