সাপ্তাহিক টুকরো হাসিতে কল্যাণ গঙ্গোপাধ্যায় – আট
টুকরো হাসি-আট
ঘুম ছিল,ঘুম নেই
বিয়ের পর থেকেই প্রবালের রাতে ঘুম নেই।নতুন বউ রুচিরার কত যে কথা সব শুনতে শুনতে ভোর হয়ে যায়।ভোরে রুচিরা ঘুমায়।সে ঘুমাতে পারে না।তাকে বাজারে যেতে হয়।অফিস যেতে হয়।কত কাজ।
বাজার এনে রাখতেই রোজই প্রবালের মা ব্যাজার মুখে বলে,‘বউকে ডাক।আর কত ঘুমাবে।আমি কতদিন তোর অফিসের ভাত রান্না করব?’
প্রবাল বলে,‘মেয়ে রান্না জানে না বলতেই তুমিই তো বড়ো মুখ করে ওর মাকে বলেছিলে ওসব তুমি শিখিয়ে নেবে। মনে নেই?’
‘এত বেলা অবধি ঘুমিয়ে থাকলে আমি কাকে শেখাব?আমার পোড়া কপাল।’
‘এই কথার কী উত্তর দেবে প্রবাল।সে অফিসে যায়।রোজই এই হচ্ছে।বউয়ের ঘুম যেন ভাঙতেই চায় না।’
সকালে এক কাপ চা ঠকাস শব্দ করে টেবিলে রেখে বোন বলল,‘কিরে দাদা আমাকে তো ভোরে উঠে পড়তে বসার জন্য খুব জ্ঞান দিতি।এখন বউকে বল।ভোরের হাওয়া।পাখির ডাক।দিনের প্রথম সূর্য।তোর বউ তো রোদে ঘিলু শুকিয়ে যাবার সময় হয়ে গেলেও উঠছে না।’কথাগুলি বলে গট মট করে চলে গেল।
প্রবাল তাড়াতাড়ি অফিস থেকে এল।আজ সে রুচিরার সঙ্গে কথা বলবে।বোঝাবে।রুচিরা এক কাপ চা নিয়ে হাসি মুখে এল।চমকিত হয়ে প্রবাল বলল,‘তুমি করলে?’
‘আমি না তো কে?’
চুমুক দিয়ে চমকাল প্রবাল।কাপটা মেঝেতে পড়ত।সামলে নিল।বলল, ‘এটা চা?’
‘চা না তো কি?তালের বড়া?’রুচিরা বলল,‘তোমরা বাড়ির কেউ ভালো না।মাকে চা দিলাম।খেয়ে বলল, এটা কি দিয়েছ?আমার কি ম্যালেরিয়া হয়েছে?তোমার বোনটাও হয়েছে তেমনি।চা খেয়ে এমন বিষম খেল,তার কাশি আর থামতেই চায় না।’
প্রবাল বলল, ‘তোমার চা কোথায়?’
‘আনছি।’বলে এক কাপ চা নিয়ে এল।চুমুক দিয়ে মুখের ভূগোল বদলে গম্ভীর হয়ে রুচিরা বলল,‘তুমি চা খাচ্ছ না কেন?আমিও খাব না।’দুটো কাপ নিয়েই সে চকিতে হাওয়া।
রাতে কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না প্রবালের।খেতে বসলে মা রোজই বলে, আমি চোখ বুজলে তোর যে কী দশা হবে তাই ভাবি।
রুচিরা বলল,‘তুমি না ঘুমিয়ে ওই রকম প্যাট প্যাট করে তাকিয়ে থাক কেন?পাগলের মতো লাগে।কেমন ভয় করে।আচ্ছা তুমি কি কোনোদিনই ঘুমাতে না?’
‘কেন ঘু্মাব না।আমার মা,ঠাকুরমা ছোটোবেলায় কত গল্প বলত।শুনতে শুনতে চোখে ঘুম জড়িয়ে আসত।
কী সুন্দর সব গল্প।রাজকুমার,রাজকুমারী,পরির গল্প।মহাপুরুষদের গল্প।কত সুন্দর ছিল দিনগুলি।’
‘আমিও তো তোমাকে কত গল্প শোনাই।শোনাই না?এত বেইমান কেন তুমি?’
প্রবাল বলল,‘তোমার গল্প হল আমার বাবা,মা,বোন কত খারাপ।এইসব।তাই জেগে থেকে ভাবি, ঘুম ছিল,ঘুম নেই।’