T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় কেয়া চন্দ

একা- লেখিকা
জন্মক্ষণের নগ্ন পোশাকে
আমি এসেছি একা, যাব একা,
শুধু মধ্যিখানের দুদন্ড সময় জীবনের রঙিন সুতোয় গাঁথা।।
কত কোলাহল
কত রক্ষবেরঙের হাতছানি,
কত না স্বপ্ন দুটি চোখে,
কত ভাব, ভালোবাসাবাসি।।
কোন এক নিঃঝুম দুপুরে,
যখন ভাবতে বসি,আমি কে,কে আমার ?।
টিপটিপ অশ্রুজলে,ভিজে যায় দু চোখের পাতা,
ভিতরের আমি কেঁদে ওঠে ডুকরে।।
আমি কি কারো মাতা, কারো ভগিনী,
কারো প্রেয়সী, কারো পত্নী ?
নাকি আমি শুধু নিরাকার
ব্রহ্মের এক রত্তি !
এসেছি তার আশির্বাদ নিয়ে,
ক্ষণিকের তরে দিতে আর সকলকে শান্তি,
রক্ত মাংসের আচ্ছাদনে চামড়ায় জড়ানো এই দেহ
আমার জীবনের এক প্রাপ্তি।।
জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ সৈনিক আমি,
বিভিন্ন বয়ঃসন্ধিক্ষণে, যখন, প্রয়োজন যেমন –
নিজেকে সাজিয়ে নিই সেই ভূমিকায়,
করি দক্ষ অভিনয় তেমন।।
বসে থাকি শেষ হাতছানির আশায়,
হবে যবনিকা পতন,
করব আমি সারা জীবনের
অজস্র দর্শকবৃন্দকে নমন,
আমার শরীর হবে স্তদ্ধ নিথর নিশ্চল,
ছড়াবে খই ,
আর শব্দ গুঁজ উঠবে-
“বল হরি–হরি বল“৷৷
চলে যাব আমি, মাটি হবে আমার শরীর,
কিন্তু রয়ে যাবে আমার কর্মকান্ড, অজস্র সৃষ্টি,
যা নিয়ে হইচই করবে আমার পরের প্রজন্ম,
শুধুই বাঁচবে আমার কৃষ্টি।।
হে বিশ্ববাসি শোনো, ভাব একবার, একা, শুধু একা, এসেছি একা, যাব ও একা,
তবে জীবনের মাঝপথে, কি পেলাম, কি দিলাম,
তাই নিয়ে কেন এত মাথাব্যাথা ?।