।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় কুশল ভৌমিক

মানবিক অসুখ

শুনেছি আমার প্রপিতামহ কাউকে কিছু না বলে
প্রপিতামহীর হাতটি ধরে তীর্থে চলে গিয়েছিলেন
নদীয়া নবদ্বীপ হয়ে স্থায়ী নিবাস গড়েছিলেন
রাধা-কৃষ্ণের স্মৃতিবিজড়িত মধুর শ্রীবৃন্দাবনে।
আমার পিতামহ ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে
পিতামহীর হাত ধরে ফসল তুলতে যেতেন
আমার পিতামহ কাঁধে কোনো গামছা রাখতেন না
ঘাম মুছতে পিতামহী এগিয়ে দিতেন প্রেমের আঁচল।
আমার পিতাকে কোনদিন প্রকাশ্যে মায়ের হাত
ধরতে দেখিনি তবে প্রতিদিন দুপুরবেলায়
স্নান সেরে মা যখন ইষ্টনাম জপতেন তুলসীতলায়
তখন পত্রিকা পড়ার অযুহাতে আড়চোখে বাবা অপলক মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকতেন।
একবার বিজয় দশমীতে মা যখন দুর্গার পায়ে
সিঁদুর লাগিয়ে ঘরে ঢুকছিলেন, মাকে আলতো জড়িয়ে কপালে চুমু দিয়ে লজ্জায় লাল হয়ে
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন আমার বাবা।
আর পঁচিশ বছর বয়সে বড়োবাড়ির পুকুরঘাটে
আমার বসন্ত থমকে দাঁড়িয়েছিল এক কিশোরীর
নাকের ডগায় লাগা বিন্দু বিন্দু ঘামে।
সেই মাহেন্দ্রক্ষণে অনুভুতির স্ট্যাম্পে বিনা শর্তে
তাকে লিখে দিয়েছিলাম আমার সমস্ত পৃথিবী।
এবং সেই থেকে আমি আটকে আছি পঁচিশে
আর মেয়েটি একুশে।
এবং সেই থেকে আমরা জেনে গেছি–
ভালোবাসা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া
এক মানবিক অসুখের নাম।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।