সব চলে যাওয়াই যেমন ছেড়ে যাওয়া নয়, ফিরে আসার গোপন রাস্তাও হতে পারে।
তেমনই সব ফিরে আসাও কিন্তু কাছে আসা নয়, বাধ্য হয়ে হয়তো এসেছে ফিরে, পরিস্থিতির চাপে পড়ে ফিরেছে, সন্তানের কারণে কিংবা সমাজের চাপে কিংবা হয়তো আর কোনো বেটার অপশন পায়নি তাই…
একটা বয়সের পর কোনো মানুষকেই জোর করে ধরে রাখতে ইচ্ছে করে না। প্রতিটা মানুষই তো ঘাসের উপর লেগে থাকা শিশির বিন্দু, হাতের মুঠোয় ধরতে গেলে ঝরবে ঠিকই….
তার চেয়ে জামার বোতামের মতো কেউ মন ঘেঁষে থাকলে থাকবে নইলে চলে যাবে। “আই ডোন্ট কেয়ার ফর এনিওয়ান” এই কথাটা বলতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেল, তবুও অবশেষে অনেকটা ভেঙে গুঁড়োগুঁড়ো হওয়ার পর ফাইনালি বলতে পেরেছি নিজেকে….
আজ কোথাও গিয়ে নিজেকে নির্ভার করতে পারি, হালকা লাগে, ছাদে দাঁড়িয়ে মুড়ি চিবোতে চিবোতে বলতে পারি “আমার জন্য আমিই যথেষ্ট, সামলে নেবো নিজেকে”….
আমি আমার প্রতিটা অনুভূতি আর খরচা করি না, বরং তুলে রেখেছি রাতের বিষণ্নতায়, একলা বারান্দায়, পুরোনো কাঠের আলমারিতে, বইয়ের তাকে, মায়ের শাড়িতে, বাবার চেয়ারে….
ভিজে টবের মাটিতে পুঁতে রেখেছি আমি আমার সমস্ত আবেগ, ব্যথা,কান্না, শোক।
যে মানুষ একবার যায়, সে কি আর ফেরে আগের মতো করে? কেউ বলতে পারবে গ্যারেন্টি দিয়ে? তার চেয়ে ছেড়ে দেওয়াই ভালো, যে যার মতো করে জীবনটাকে নিংড়ে নিক, মুহূর্তে বাঁচুক মানুষ, মুহূর্তেই জড়িয়ে পড়ুক। আবার এক মুহূর্তেই দশ বছরের সম্পর্ক অস্বীকার করে বেরিয়ে যাক ইচ্ছে হলে…
কেই বা বলতে পারে আজ এই সময় একটা মানুষ এই মুহূর্তটুকু আঙ্গুল ডুবিয়ে উপভোগ করতে পারছে, কাল নাও বা পেতে পারে এই মুহূর্তগুলো।
তাই আমি সম্পর্ক ও মানুষ জমানোর চেয়েও মুহূর্তদের জমিয়ে রাখতে বেশি পছন্দ করি….
একটা মেঘ জমানো বিকেল, একটা রোদ্দুর ওঠা সকাল, একটা সূর্য ডোবা সন্ধে, একটা শিশির মাখা রাত, দুই কাপ চা আর তোমাকে জড়িয়ে ধরার মুহূর্ত গুলো জমিয়ে রাখি তিলতিল করে….